বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
খুলনায় ফেটে পড়ল শ্রমিকদের বঞ্চনার ক্ষোভ!
মামুন মোল্লা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
খুলনার আটরা মিরেরডাঙ্গা ও শিরোমনি শিল্প এলাকার বিভিন্ন মিল–মহসেন, সোনালী, এজাক্স, জুট স্পিনার্স, আফিল, হুগলী বিস্কুট কোম্পানি সহ সকল পাট, সুতা ও বস্ত্রকলের হাজারো শ্রমিক কর্মচারীরা আবারও রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রমিকদের বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনাদী এককালীন পরিশোধ এবং ফ্যাসিষ্ট চরিত্রের মালিকদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবিতে বুধবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে বেসরকারি পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন (রেজি নং ১০) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম রসুল খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিকদের ঘামে গড়া কলকারখানা সচলের নামে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন নিলেও মালিকরা সে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছে। অথচ মিলগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে, আর শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহসেন মিল থেকে রাতের আঁধারে লুটপাট করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মেশিনারি ও মালামাল—যার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
আফিল মিলের মালিক, যিনি ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা না দিয়েই জোরপূর্বক ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। এজাক্স জুট মিলে কাওসার জামান বাবলা নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে শ্রমিকদের পাওনা বকেয়া রেখে মিল লুটের ষড়যন্ত্রে যুক্ত আছেন বলে অভিযোগ করা হয়। সোনালী জুট মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তালুকদার মিমও নিয়মিতভাবে মেশিনারি ও মালামাল লুটে জড়িত, অভিযোগ এমনটাই।
এছাড়া জুট স্পিনার্স মিলের মালিকপক্ষ সরাসরি ফ্যাসিষ্টদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। আর হুগলী কোম্পানির মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পয়সা না দিয়ে মিল থেকে রাতের আঁধারে মাল সরিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক, প্রচার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, শ্রমিক নেতা কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, ওদুদ হোসেনসহ আরও অনেকে।
শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দেন, ১৬ মে বিকাল ৫টায় মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকার সোনালী জুট মিল থেকে শুরু হবে বিক্ষোভ মিছিল। এরপর ২০ মে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা জানান, শ্রম উপদেষ্টার সাথেও সাক্ষাৎ করে শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হবে। আর এসব কর্মসূচির পরেও যদি সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে লাগাতার রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির মতো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবে শ্রমিক সমাজ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, এই অন্যায় অবিচার আর প্রতারণার শিকার শ্রমিকদের আর পেছনে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। এখন সময় এসেছে দুর্নীতিগ্রস্ত মালিক এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় লুটপাটকারীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার। এবার শুধু দাবি নয়, প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রমিকরা।