শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে আওয়ামী বিরোধী হুঙ্কার, তামিমের ক্রীড়া স্বপ্ন!
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (১০ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিশাল সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর এই আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না।” তার বক্তব্যে তিনি সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা এক-দুজন মানুষের কথা নয়। লাখ লাখ মানুষ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে, তাদের পরিবারগুলো আজো কষ্টে আছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে—এই জাতি এমন বর্বরতা আর সহ্য করতে পারছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় বছর ধরে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। এখনো আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। আজকের এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আমাদের তরুণ ভাইদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় এই স্বৈরাচারের অবসান হবে।”
সমাবেশের বিশেষত্ব ছিল এর আয়োজন ও বিপুল উপস্থিতি। ফখরুল ইসলাম বলেন, “যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ পলোগ্রাউন্ড মাঠে অভাবনীয় এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম আমাদের জন্য বরাবরই বিশেষ একটি স্থান। এই শহর থেকেই জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই চট্টগ্রাম আজ আবার ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে।”
সমাবেশে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় নাম, সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল উপস্থিত থেকে আলোচনায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেন। তামিম বলেন, “আমি বরাবরই খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে আগ্রহী। ব্যারিস্টার মীর হেলাল ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত কথা হয়। ইসরাফিল খসরু ও হুম্মাম কাদের ভাইয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছি—কীভাবে চট্টগ্রামের ক্রীড়াক্ষেত্রকে আগের গৌরবময় অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। আমি শতভাগ নিশ্চিত, তারা সুযোগ পেলে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ সব খেলাধুলাকে নতুন করে গড়ে তুলবেন। তারা চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবেন।”
তামিম আরও বলেন, “আমরা চাই চট্টগ্রাম আবার দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের সিগনেচার হয়ে উঠুক। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে এই শহর আগের দিনগুলোর গৌরব ফিরে পাবে।”
চট্টগ্রামের এই সমাবেশ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে বিএনপির হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে পলোগ্রাউন্ডের এই জমায়েত বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে এক নতুন সাড়া ফেলেছে।