শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
এক সঙ্গে বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু আর নববর্ষ—এ যেন পাহাড়ের প্রাণের স্পন্দন, ঐতিহ্য আর মিলনের উৎসব!
কেফায়েত উল্লাহ খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি হচ্ছে পাহাড়ের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। আজ সকাল ৯ ঘটিকার দিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু (বৈসাবি) ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে এ কথা বলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মোঃ আমান হাসান, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি। পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এ.বি.এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। এ সময় সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংহ্লামং চৌধুরীর উপস্থাপনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের নবনিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।
সমাবেশের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, বৈসাবি হচ্ছে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব। এটা পাহাড়ের বাসিন্দাদের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। এটা পাহাড়ি ও বাঙ্গালির মিলনমেলা। এ উৎসব পাহাড়ের প্রাণের উৎসব বলে মন্তব্য করেন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মোঃ আমান হাসান র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন। র্যালিতে ত্রিপুরা, চাকমা, মারমাসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষরা অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরে নানা বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে টাউন হল প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা ও বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই। নিজেদের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা ধরে রাখার জন্য প্রতিবছরই এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব “বৈসু “। চৈত্র মাসের শেষ দুইদিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন তিনদিনব্যাপী এ উৎসব পালন করা হয়। প্রথম দিনকে বলা হয় হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বৈসুমা এবং তৃতীয় বা শেষ দিনটিকে বলা হয় বিসিকতাল। মূলত আগামী দিনের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয় এই দিনে।
মারমা জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসবের নাম ” সাংগ্রাই “। প্রতিবছর এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখে এ উৎসব পালিত হয়। মারমাদের বর্ষপঞ্জি অনুসরারে এটি পালিত হয়। পুরনো বছরের শেষের দুই দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিনসহ মোট তিনদিন মারমারা সাংগ্রাই উৎসব
হিসেবে পালন করে থাকে।
চাকমা জনগোষ্ঠীর উৎসবের নাম ” বিঝু “। বিঝু চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পালিত হয়, যা বাংলা ক্যালেন্ডারের শেষ দিন। এই উৎসব চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকে শুরু করে তিন দিনব্যাপী চলে।