শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
জামিল মুহাম্মাদ ইউসুফ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
“শিশুর বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি! এই বর্বরতা হার মানিয়েছে আইয়্যামে জাহেলিয়াতকেও!”—বিস্ময়-ভরা কণ্ঠে মন্তব্য করলেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় আহত ৬ বছরের শিশু আবিদা বেগমকে দেখে আসার পর আজ বিকেল ৪টায় এক জোরালো প্রেসব্রিফিং-এ তিনি বলেন, “শিশুর গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি চালানো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ।” তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর গ্রামের এই ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. করিম আরও জানান, তিনি আবিদা ও তার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে কথা বলেছেন।
তিনি আবিদার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং বলেন, “এই বর্বরতা প্রমাণ করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।”
সাথে ছিলেন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা, যেমন শাহবাগ পূর্ব থানা সেক্রেটারী মোঃ নুরুন্নবী রায়হান, বিডিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ন ম নুরনবী জনি, মোঃ ফজলে আজিম, মোঃ জামাল উদ্দিন, মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান, ইকবাল হোসেন, বেলাল হোসেন, আসম মাহবুব, মোঃ ইউসুফ, মোঃ সিরাজ উদ্দিন প্রমুখ।
ড. রেজাউল করিম বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসীবাদীরা দেশকে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যার রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “যদিও স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে, তবুও তাদের সৃষ্ট দানবীয় সংস্কৃতি এখনো তাণ্ডব চালাচ্ছে। শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে।”
তিনি সুশাসন, আইনের শাসন এবং নৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে একটি কার্যকর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান।
তার মতে, “সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতেই হবে।”