শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে সমুদ্র উপকূল রক্ষায় ভোলার মনপুরায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে চলছে ৫০ কিলোমিটার ৭০০ মিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হলেও বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টো। বাঁধ নির্মাণের নামে উজাড় করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভোলা জেলার মুজিবনগর মনপুরা উপকূলীয় বাঁধ পূর্ণবাসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ শুরু হয়। ছয়টি বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—এন.বি.ই, ও টি.বি.এল, জি.সি.এল, এল.এ.কে.এস.এস.এ, পি.ডি.এল এবং ওয়েস্টান—এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত। কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরুর পর স্থানীয় ছোট ঠিকাদারদের সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শুরু হয় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকসই বাঁধের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু মিশ্রিত মাটি। আশপাশের চর কেটে মাটি এনে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংরক্ষিত চর ও বনভূমি। ইতোমধ্যে উজাড় হয়েছে প্রায় অর্ধশত একর বনাঞ্চল। স্থানীয়রা বলছেন, এই বনই ছিল ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তাদের একমাত্র ঢাল।
বাঁধের পাশের বাসিন্দারা জানান, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস করে কাজ চলছে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া। স্থানচ্যুত হতে হচ্ছে ভূমিহীন অসহায় পরিবারগুলোকে। স্থানীয় মিজান বলেন, “আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, অথচ গাছ কেটে, জমি দখল করে কাজ চলতেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা বাকের, রহিম, ফিরোজসহ অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন—মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে। তারা বলছেন, বন উজাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বাড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মো. আব্দু রহমান জানান, “মনপুরায় ১৫ দিন ধরে কাজ বন্ধ। চর কেটে মাটি ব্যবহার ও গাছ কাটার অনুমোদন আমাদের রয়েছে।” বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান বলেন, “গাছ কাটার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, আমরা শুধু নির্ধারিত গাছগুলো চিহ্নিত করেছি।”
উপকূল রক্ষার নামে যদি বন ধ্বংস হয় আর মানুষের বসতি নিশ্চিহ্ন হয়—তাহলে প্রশ্ন ওঠে, কার স্বার্থে এই প্রকল্প? উপকূল রক্ষার নামে যদি প্রকৃতি ধ্বংস হয়, তাহলে রক্ষা কি আদৌ সম্ভব?