1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ইতালির নাম করে লিবিয়ায় পাচার: স্বপ্নভঙ্গের গল্প, ২৫ পরিবার নিঃস্ব - Janatar Jagoron

ইতালির নাম করে লিবিয়ায় পাচার: স্বপ্নভঙ্গের গল্প, ২৫ পরিবার নিঃস্ব

  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৯২ বার পঠিত
২৫ পরিবার নিঃস্ব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের লালুয়ারটুক গ্রামের বৃদ্ধ এনামুল হক স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর দুই সন্তানকে ইতালি পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর। সেই স্বপ্নের পেছনে তিনি বিক্রি করেছিলেন জমি, নিয়েছিলেন ঋণ—সর্বমোট ২২ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁর ছেলেরা ইতালি পৌঁছানোর বদলে আটকে পড়েন লিবিয়ায়, যেখানে দালাল চক্র তাদের আটক করে নির্যাতন করে অর্থ আদায় করেছে। এক বছর ধরে দুই সন্তানের কোনো খোঁজ নেই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু এনামুল হকের পরিবারের নয়। নাসিরনগর ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের আরও ২৫ পরিবারের ২৬ যুবক একই ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সবাইকেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ইতালি পাঠানোর, কিন্তু তাদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে বন্দি করা হয়। দালাল চক্র প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন কোনওমতে দেশে ফিরতে পারলেও বাকিরা এখনও নিখোঁজ বা বন্দি।

নির্যাতনের বিবরণ

বন্দি থাকা অবস্থায় প্রতিদিন চলত অমানবিক নির্যাতন। খাবার হিসেবে দেওয়া হতো সামান্য রুটি ও লোনা পানি, যা পেটে ব্যথা সৃষ্টি করত। গোসল এবং প্রাকৃতিক কাজের জন্যও সীমিত পানি বরাদ্দ ছিল। কাজ না করলে, কিংবা নির্দেশ অমান্য করলে দালাল চক্রের লোকজন তাদের মারধর করত। এমনকি মাঝে মাঝে তাদের প্রস্রাব পান করতেও বাধ্য করা হতো।

ফিরে আসা যুবকদের ভাষ্য লিবিয়ায় বন্দি থাকা ৯ জনের মধ্যে সুমন মিয়া বলেন, দালাল ফরহাদ মিয়ার মাধ্যমে তাদের ইতালি পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এক পাকিস্তানি নাগরিকের সাহায্যে অবশেষে তারা বাড়িতে ফেরার পথ খুঁজে পান।

মানববন্ধন ও বিচার দাবি

এই ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন এবং দালালদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ফরহাদ মিয়া, মামুন মিয়া, আরমান মিয়া এবং সায়েদুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। ফরহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সরকারি প্রতিক্রিয়া

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া জানান, তারা এসব ঘটনার বিষয়ে আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..