শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
আছিয়া হত্যার বিচার ও সারাদেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। সাধারণ শিক্ষার্থীরা রোববার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শিক্ষার্থীরা গগনবিদারী স্লোগানে ফুঁসে ওঠেন— ‘তুমি কে আমি কে, আছিয়া আছিয়া’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ধর্ষকের শাস্তি, মৃত্যু মৃত্যু’, ‘ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’। এমনকি বিশিষ্ট আইনবিদদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘আসিফ নজরুল তুই আইন দে, নয়তো গদি ছাইড়া দে’।
গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী উম্মে হাবিবা শান্তার চোখে ছিল অগ্নিশিখার প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, “নারী হতে শেখার আগেই ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে! কারণ, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই। যদি একবারই প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হতো, তাহলে আর কেউ সাহস পেত না। ৯০ দিন লাগবে কেন? এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর চাই!”
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দোলনার ক্ষোভ আরও তীব্র— “ধর্ষকের বিচার ৯০ দিনে? কেন? তাকে কি নব্বইটা ধর্ষণের সুযোগ দিতে হবে? আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর হোক। আজ ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, কাল রাস্তায় বের হলে আমি হবো না, এই নিশ্চয়তা কে দেবে?”
মার্কেটিং বিভাগের পাবেল রানার গলায় ছিল আক্রোশের সুর— “একটি শিশুকে ধর্ষণ করতে ২০ মিনিট লাগে, তবে ২০ মিনিটের মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর করতে হবে! আমার মা-বোনেরা রাস্তায় নিরাপদ নয়, অথচ অপরাধীদের বিচার করতে ৯০ দিন সময় লাগে! এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হান্নান রহিম স্মরণ করিয়ে দেন— “নোয়াখালীতে ফ্যামিলির সামনেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে! বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে দেওয়া যাবে না। নতুন বাংলাদেশেও যদি বিচার না পাই, তাহলে পরিবর্তন কিসের? কুবিয়ানরা বলে দিতে চাই— ৯০ দিন না, এখনই প্রকাশ্যে ধর্ষকদের ফাঁসি চাই!”
এই বিক্ষোভের ঢেউ শুধু কুবিতেই নয়, সারা দেশেই আলোড়ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির জবাব কী দেবে সরকার? জনতার উত্তাল কণ্ঠস্বর কি এবার ন্যায়বিচার আদায় করতে পারবে?