শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষকসহ তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
সন্ধ্যায় জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখা ও অনুপস্থিতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক হলেন রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সিদ্ধার্থ শংকর সাহা। অন্য দুই বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন রুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম রহমান নিবিড় এবং কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি ও পদার্থবিদ্যা বিভাগের ডাটা প্রসেসর মো. মহিদুল ইসলাম।
এছাড়া পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের প্রকৌশলী ও ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বরখাস্ত হওয়া নাঈম ও মহিদুল গত ৪ আগস্ট ধারালো অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং বোমা হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে! অন্যদিকে, শিক্ষক সিদ্ধার্থ শংকর সাহাকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল, কারণ তিনি জুলাই আন্দোলনের আহত ও নিহতদের অবমাননা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আবেদনপত্রের পর অবশেষে প্রশাসন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই বরখাস্তের ঘটনায় রুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে!