শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৭ মার্চ) সকালে শহরের ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতাল অ্যান্ড ইকো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাকের পলিপাস অপারেশনের পর ১৮ বছর বয়সী উৎস ভট্টাচার্য অচেতন অবস্থায় পড়ে যান এবং পরে মারা যান। মৃত্যুর পর, উৎসের বড় ভাই উচ্ছাস ভট্টাচার্য ৩ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
উৎস ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের ছেলে এবং সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উৎস নাকের পলিপাস অপারেশন করানোর জন্য ফাতেমা হাসপাতাল যান, যেখানে অপারেশন করেন ডা. কাজী রাজিবুল ইসলাম এবং অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. প্রবীর কুমার মন্ডল। অপারেশনের পর উৎসের জ্ঞান ফিরে না আসায় পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, ফাতেমা হাসপাতাল বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসা অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে সমালোচিত হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও গুরুতর অপারেশন করা হয়, যা রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে। উৎসের মৃত্যুর পর হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়ে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এ ক্লিনিকে অতীতে বহু রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু এখানকার চিকিৎসকরা প্রায়ই অনভিজ্ঞ এবং সরঞ্জামের অভাবে বড় অপারেশন পরিচালনা করে, যা আরও বিপদজনক।”
উৎসের সহপাঠী এবং শিক্ষকরা জানান, উৎস ছিল একজন মেধাবী ছাত্র, যার মৃত্যু কলেজ এবং পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। উৎসের অকাল মৃত্যু একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেছেন, “যদি অপারেশনের পর রোগী জ্ঞান না ফিরে, তা হলে অবশ্যই তা তদন্তের বিষয়। এটা অ্যানেসথেসিয়ার ভুল বা সার্জিক্যাল জটিলতা হতে পারে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি।”