রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একদল দুর্বৃত্ত মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ফতেহাবাদ দক্ষিণপাড়া বায়তুল আক্সা জামে মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় মসজিদের সেক্রেটারি মো. ইব্রাহীমসহ চারজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ইব্রাহীমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আর বাকিরা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহত অন্যরা হলেন ইসমাইল (৩৫), কামরুল (১৯) ও কাওসার (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় এক মাস আগে মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে ফতেহাবাদ দক্ষিণপাড়া ও পার্শ্ববর্তী নয়াকান্দি গ্রামের তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই পুরনো বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেলে নয়াকান্দি গ্রামের একজনকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে নয়াকান্দির কিছু যুবক প্রতিশোধ নিতে ফতেহাবাদ গ্রামের কামরুলকে রাস্তায় আটকিয়ে মারধর করে। হামলা থেকে বাঁচতে কামরুল ও তার সঙ্গীরা দৌড়ে মসজিদে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা তাদের খুঁজতে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আউয়াল জানান, প্রায় ১০-১২ জন যুবক লোহার রড, হকিস্টিক ও পাইপ নিয়ে মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের মারধর করে এবং জানালা, দরজা ও কাঁচ ভেঙে ফেলে। মসজিদের সেক্রেটারি ইব্রাহীম বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইমাম মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন যে ডাকাত পড়েছে, এরপর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
হামলার শিকার কামরুলের চাচাতো ভাই শাফাতুল ইসলাম রাব্বি বলেন, “আমরা নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম, তখন নয়াকান্দির ইমন, মনির, সাকিব, আবু তাহের, মাসুদ, সাইদুল, জিহান, তাইদুল ও রাব্বি আমাদের ধরে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মসজিদে আশ্রয় নেই, কিন্তু তারা আমাদের পিছু নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।”
মসজিদের সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আবুল কাশেম বলেন, “আমরা নামাজ পড়ছিলাম, তখন দেখি বাহিরে একদল ছেলে গ্লাস, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করছে। কিছু যুবক মসজিদের ভেতরেও ঢুকে তাণ্ডব চালায়।”
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, “মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি, এটি ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের পরিণতি। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। কেউ মামলা করলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”