বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
মর্গে লাশের চোখ গায়েব,কর্তৃপক্ষ বলছে, ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে
অনলাইন ডেস্ক
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ও অস্বাভাবিক ঘটনা—এক হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির লাশের দুই চোখ ময়নাতদন্তের আগেই হঠাৎ করে গায়েব! আর এ ঘটনায় যেন অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এমন এক ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ—”ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে চোখ দুটি!”
নিহত ব্যক্তি মাসুম মিয়া (৪৫), রংপুর মহানগরের বুড়িরহাট বাহারদুর সিংহ গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে। জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে, নগরীর বাহাদুর সিংহ (ডনের মিল) এলাকায়। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সকালে তার শ্যালক সায়েদুর রহমান ও তার সহযোগীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মাসুম ও তার পরিবারের ওপর। এতে মাসুম ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় মাসুমের স্ত্রী খাদিজা বেগম ও মেয়ে মরিয়ম খাতুনও আহত হন।
মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ সেটিকে মর্গে পাঠায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ওইদিন কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি। পরদিন বুধবার সকালে যখন মাসুমের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বের করা হয়, তখন উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান—লাশের দুটি চোখ নেই!
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মুহূর্তেই হাসপাতাল চত্বরে তোলপাড় ফেলে দেয়। নিহতের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্ষোভের সীমা থাকে না। তারা বলেন, জীবিতের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, এখন মৃতেরাও হাসপাতাল মর্গে নিরাপদ নয়!
নিহতের প্রতিবেশী আনসার আলী বলেন, “এটা শুধু গাফিলতি নয়, এটা অমানবিকতার চরম পর্যায়। কীভাবে লাশের চোখ গায়েব হলো—এর দায় কে নেবে?” একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল জলিল।
এদিকে গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা শুনে অনেকেই হতবাক। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, “মর্গের পরিবেশ খুবই নাজুক। ইঁদুরের উৎপাত বাড়ছে দিনে দিনে। ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরেই হয়তো খেয়ে ফেলেছে চোখ দুটি।”
এমনকি হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক ইসলামও একই কথা বলেন, “ইদানীং মর্গে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা কীইবা করতে পারি!”
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান ফোনে বলেন, তিনি বাইরে আছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু উপ-পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সকালে মর্গে গিয়ে দেখেছি—মাসুমের চোখ নেই। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমরা ঘটনার তদন্ত করছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
এমন এক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে দেশের অন্যান্য হাসপাতাল বা মেডিকেল সেন্টারের অবস্থা কেমন? গাফিলতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং ন্যূনতম দায়িত্ববোধের অভাব এখানে যেন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।