বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
টেসলার অটোড্রাইভ আবার বিতর্কে, হরিণ চিনল না ‘স্মার্ট’ গাড়ি
অনলাইন ডেস্ক
টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিকে বলা হয় ভবিষ্যতের চালকহীন গতি—যেখানে ক্যামেরা ও সেন্সরই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় সেই ‘স্মার্টনেস’ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। হরিণের মতো বড় প্রাণীকেও চিনতে ব্যর্থ হলো টেসলার এআই প্রযুক্তি। ফলাফল? দুর্ঘটনা, বিতর্ক এবং তদন্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে টেক্সাসে। গাড়ির মালিক পল এস. জানান, তিনি টেসলার অটোড্রাইভ ফিচার চালু রেখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় চলে আসে একটি হরিণ। পল মনে করেছিলেন, এত উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি নিশ্চয়ই থেমে যাবে, কিন্তু না! গাড়ি একদম গায়ে গিয়ে ধাক্কা মারে হরিণকে।
অটোড্রাইভ কি অন্ধ?
ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও হরিণটি মারাত্মকভাবে আহত হয়নি এবং গাড়িটির কাচে শুধু ফাটল ধরেছে। তবে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এত উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও টেসলার সিস্টেম একটি চলমান প্রাণীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো কেন?
টেসলা বরাবরই বলে আসছে, তাদের গাড়িতে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও সেন্সর মিলিয়ে এমন একটি কম্বিনেশন তৈরি করা হয়েছে যা পরিবেশ বুঝে, বাধা চিনে গাড়ি থামাতে সক্ষম। এই ঘটনাটি সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
এটাই প্রথম নয়। টেসলার অটোড্রাইভ প্রযুক্তি ইতিপূর্বেও নানা দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে। কখনও গাছের সঙ্গে ধাক্কা, কখনও ট্রাকের নিচে ঢুকে পড়া—সব মিলিয়ে এর নিরাপত্তা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) ইতোমধ্যে টেসলার এই প্রযুক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। এবারের হরিণ-কাণ্ড সেই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
টেসলার নীরবতা
এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি টেসলা কর্তৃপক্ষ বা ইলন মাস্ক। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা আছে এবং সেটি ভুল করতেই পারে। কিন্তু সেই ভুল যদি প্রাণঘাতী হয়, তাহলে দায় কার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোড্রাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে সেন্সর ও ক্যামেরার পাশাপাশি লিডার (LiDAR) প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা উচিত। টেসলা যদিও লিডার ব্যবহার না করে কেবল ক্যামেরাভিত্তিক সমাধানেই ভরসা রাখছে।
টেসলার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি আরও ‘বুদ্ধিমান’ হবে?
টেসলা প্রতিনিয়ত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে তাদের গাড়ির অটোড্রাইভকে আরও উন্নত করার দাবি করে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, রাস্তার বাস্তব চিত্র—বিশেষ করে চলমান প্রাণী বা হঠাৎ উদয় হওয়া বাধা—এখনো এআইয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের হরিণের ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ভবিষ্যতের একটি বড় হুঁশিয়ারি—সেটিই ভাবনার বিষয়। কারণ মানুষ যদি চোখ বন্ধ করেও গাড়ির দায়িত্ব তুলে দেয় মেশিনের হাতে, তবে সেই মেশিনকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য হতে হবে।
উপসংহার:
টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই আছে, বলছেন অনেকে। তবে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা নড়বড়ে হতে বাধ্য।
স্মার্ট গাড়ি হতে পারে ভবিষ্যতের বাস্তবতা। কিন্তু স্মার্টনেসের নামে যদি প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে, তবে সে প্রযুক্তিকে ‘বুদ্ধিমান’ নয়, ‘বিপজ্জনক’ বলাই ভালো।