বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
ড্রাইভার ছাড়াই রাস্তায় ছুটছে টেসলার রোবট ট্যাক্সি—মাস্কের স্বপ্ন বাস্তবের পথে!
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন শহরে টেসলা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেলফ ড্রাইভিং ট্যাক্সি সেবা। রবিবার (২২ জুন) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন তুললেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তার ভাষায়, “রোবট্যাক্সি হলো এক দশকের স্বপ্ন আর সাধনার বাস্তব রূপ।”
এটি কোনো সাধারণ ট্যাক্সি নয়—এটি চাকা ঘোরানোর পেছনে নেই কোনো চালক, নেই স্টিয়ারিং হুইল বা প্যাডেলও। রোবটাক্সি চলবে পুরোপুরি নিজস্ব সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণে। এখন থেকে ট্যাক্সি ডাকতে ড্রাইভারের মুখ দেখার দরকার নেই—ডাকলেই হাজির হবে গাড়ি, নিজে নিজেই।
প্রথম দিনেই চমক:
শুরুতে এই অভিনব অভিজ্ঞতার স্বাদ পাচ্ছেন শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরা। জনপ্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ২০ ডলার। যদিও এখনো প্রত্যেকটি রোবট ট্যাক্সিতে একজন করে নিরাপত্তা সহকারী বসে থাকছেন সামনের আসনে। তবে মাস্কের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে সেগুলোকেও সরিয়ে ১০০% চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা দেওয়া হবে।
সাইবারক্যাব কোথায়?
অনেকেই প্রশ্ন করছেন, টেসলার আগাম ঘোষিত “সাইবারক্যাব” কি তবে ফেলে দেওয়া হলো? না, এখনো তা রাস্তায় নামেনি। বর্তমানে চলমান রোবোট্যাক্সিগুলো টেসলার পুরোনো মডেলগুলোর বিশেষ সংস্করণ। তবে প্রতিটি গাড়ির গায়ে ‘Robotaxi’ ট্যাগ থাকায় আলাদা চিহ্নিত করা যাচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন:
টেসলা দাবি করছে, তাদের সেলফ ড্রাইভিং প্রযুক্তি অত্যাধুনিক সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত, যা পথচারী ও বাইসাইকেলচালকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা খারাপ আবহাওয়ায় এই প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। টেসলা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।
প্রতিযোগিতার হাওয়া:
যুক্তরাষ্ট্রে এই রোবোট্যাক্সি দুনিয়ায় টেসলা একা নয়। ইতিমধ্যে অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ওয়েমো ও অ্যামাজনের জুক্স প্রতিষ্ঠানগুলো ফিনিক্স, সান ফ্রান্সিসকো এবং অস্টিন শহরে তাদের সেলফ ড্রাইভিং ট্যাক্সি সেবা চালু করেছে। এছাড়া উবারও যুক্তরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।
ভবিষ্যৎ কেমন?
ইলন মাস্ক আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে রোবোট্যাক্সির জয়জয়কার হবে। শুধু যাতায়াত নয়, এই প্রযুক্তি শ্রমবাজারেও এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে। তবে এই অটোনোমাস ভেহিকেল প্রযুক্তি নিয়ে নৈতিক ও আইনগত দিক থেকেও বিশাল আলোচনা চলছে।
টেসলার রোবোট্যাক্সি কি শুধু প্রযুক্তির জয়? নাকি মানুষের চাকরি হারানোর আরেক নাম? সময়ই দেবে সঠিক উত্তর। আপাতত, ভবিষ্যতের রাস্তায় ছুটছে টেসলা, চালকহীন—তবুও নিয়ন্ত্রণে।