রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
“ত্বকে এক্সপেরিমেন্ট নয়, দরকার বয়স অনুযায়ী যত্ন—নাহলে হতে পারে বড় বিপদ!”
অনলাইন ডেস্ক
স্কিন কেয়ার মানেই এখন আর মেয়েদের একচেটিয়া বিষয় নয়, বরং জেন-জি ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে রীতিমতো ‘স্কিন ওয়ারিয়র’। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—ট্রেন্ড আর টিপসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বয়স অনুযায়ী সঠিক যত্নের ধারণা!
১৩ থেকে ২৮ বছর বয়সের তরুণরা এখন প্রতিদিন একেকটা নতুন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ট্রাই করছেন, কেউ ব্রণ কমাতে সিরাম মাখছেন, আবার কেউ রাতভর মুখে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাচ্ছেন—এ যেন এক ‘বিউটি এক্সপেরিমেন্ট ল্যাব’।
ত্বকবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম ও রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মতে, এই বয়সে সঠিক তথ্য না জেনে স্কিন কেয়ার মানেই ত্বকের ক্ষতির বড় কারণ হতে পারে। তাঁদের মতে, কিশোর বয়সে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ‘সিএমএস’—ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন। এই তিনটিই যথেষ্ট।
ব্রণ দেখা দিলে আতঙ্ক নয়, বরং ত্বকের ধরন বুঝে ফেসওয়াশ বা হালকা সিরাম ব্যবহার করলেই চলে। বেশি কিছু মাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ছেলেরাও বাদ নয়—ফেসওয়াশ আর সানস্ক্রিনে শুরু হতে পারে স্কিন কেয়ারের যাত্রা।
অনেকেই অনলাইনে ‘স্লাগিং’ বা এক্সট্রিম স্কিন রুটিন অনুসরণ করে বিপদে পড়ছেন। তাই নিজের ত্বকের ধরন না বুঝে ট্রেন্ড ফলো না করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সিরাম চাইলে একটা নয়, বেছে নিতে হবে মাল্টি-অ্যাকশন সিরাম—যেমন নায়াসিনামাইডের সঙ্গে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড মিশ্রিত সিরাম, যাতে একইসঙ্গে আর্দ্রতা আর উজ্জ্বলতা মেলে। এতে খরচও বাঁচে, রুটিনও সহজ হয়।
আর যাঁরা রাতে “মি টাইম” রেখে স্কিন কেয়ারে মন দেন, তাঁদের জন্য টিপ—নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ত্বকের বন্ধু বানিয়ে ফেলুন।
সবশেষে, ফরসা হওয়ার আশায় কোনো ‘ম্যাজিক ক্রিম’ নয়—ত্বক যেমন, তার যত্ন নিন ঠিকঠাক। কারণ, ত্বকের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে পরিচর্যায়, পরিবর্তনে নয়!