সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
নিষিদ্ধ খেলা থেকে বিশ্বকাপ—ইতালির ক্রিকেট রূপকথা শুরু!
অনলাইন ডেস্ক
বাঁধভাঙা উল্লাস, বিস্ফোরিত আবেগ আর অগণিত ভালোবাসার গল্প এবার এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিল। ফুটবল যেখানে ইতালির হৃদস্পন্দন, সেখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টানা দুই আসরে বিশ্বকাপে না থাকাটা ছিল এক চরম হতাশা।
কিন্তু এবার ইতালি ফিরছে বিশ্বকাপে, তবে সেটা ফুটবলে নয়—ক্রিকেটে! ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেটে প্রায় অচেনা এই দেশ। যেখানে ক্রিকেট একসময় নিষিদ্ধ ছিল, সেখানেই অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করলেন এক ব্যতিক্রমী প্রবাসী খেলোয়াড়।
দেশপ্রেমের টানে যেখানে হামজা, জামাল, সোমিতরা লাল-সবুজকে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে তুলতে চায়, ঠিক তেমনই এক বিরল লড়াইয়ের নাম জো বার্নস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৩টি টেস্ট খেলা এই তারকা ২০২৪ সালে তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর ফিরে যান পিতৃভূমি ইতালিতে।
আর সেখানেই শুরু তার অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াই। যেখানে একসময় এক ইতালিয়ান মেয়র অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে ক্রিকেট নিষিদ্ধ করেছিলেন, সেই দেশেই ক্রিকেটের বীজ বপন করেন বার্নস। প্রয়াত ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি গড়ে তোলেন এমন এক দলে, যারা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।
স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বার্নসদের ইতালি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে গ্রুপ রানার্সআপ। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথমবার জায়গা করে নেওয়ার পর চারপাশে রীতিমতো বিস্ময়ের ঝড়। যার শেষটা হয়েছে সিনেমার মত—স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের মোড়কে গাঁথা।
বাংলাদেশের ফুটবলেও হামজার মতো বহু তরুণ স্বপ্ন দেখেন বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। এক সময় ইতালির ক্রিকেট ছিল যে অবস্থায়, আজ বাংলাদেশের ফুটবল অনেকটাই তেমন। তবে জো বার্নস হয়ে উঠতে পারে সেই আশার নাম—যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, পরিকল্পনা আর একাগ্রতায় সবই সম্ভব। পাহাড় টলানো যেমন সম্ভব, তেমনি বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোও।