সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
“শেষ বিকল্প নয়, এনামুলের প্রত্যাবর্তন ও টেস্ট দলে হারানো আশা ফেরানোর গল্প।”
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হককে নিয়ে অনেকেই আজও ভাবেন, তার টেস্ট ক্যারিয়ারের খরাপ রেকর্ড নিয়ে। কিন্তু এর পেছনে গল্প যে শুধু ব্যর্থতার নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর এবং বাস্তব। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া কিংবা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশির ভাগ সময় হয় অন্য কারও খারাপ পারফরম্যান্সের ফলেই। এই কথাটা যেন প্রমাণ হয়ে ওঠে এনামুলের বর্তমান অবস্থায়। দুই ওপেনার জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসানের টানা ব্যর্থতা থেকেই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
গত বছর জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে ৭০০ রানের মত সফল ইনিংস উপহার দিয়ে নিজের নামের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে এনেছিলেন এনামুল। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার পর তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে সাদমানের সঙ্গে গড়া শত রানের ওপেনিং জুটিতে এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও ব্যক্তিগত রান করতে পারেননি যথেষ্ট।
৩৯ রান করে ফিরেছিলেন তিনি সেই ম্যাচে। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজে চার ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ০, ৪, ০ এবং ১৯। এই ধারাবাহিক হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ছিল। এমন প্রশ্নে দল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এনামুলের অসামান্য পরিসংখ্যানের জন্যই তাকে দলে নেয়া হয়েছিল।
নাজমুল বলেন, ‘প্রায় ৯ হাজার রানের অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়টিকে আমরা কেন দলে নেব না? আমাদের ওপেনাররা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে আছে। মাহমুদুল ও জাকির মাঝে মাঝে ভালো খেললেও ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। তাই এনামুলের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ছিল।’
২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে অভিষেক হলেও টেস্টে এনামুল কখনোই তার পারফরম্যান্সের দিক থেকে সফল হয়নি। ৮টি টেস্টে ১৫ ইনিংসে মোট রান মাত্র ১৬২। তবে শুধু সংখ্যাতত্ত্ব নয়, অভিজ্ঞতার কারণে দলে রাখা হয়েছিল তাকে। নাজমুল আরো বলেন, ‘আমরা এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান খুঁজছিলাম, যিনি রান করেছেন এবং টেস্টের জন্য উপযুক্ত। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সুযোগ পেয়েও সে রান করতে পারেনি। তবে আমি এখনও বিশ্বাস করি সুযোগ পেলে এনামুল ভালো খেলতে পারবে।’
দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেও নাজমুল এনামুলের প্রতি তার বিশ্বাস হারাননি। তিনি বলেন, ‘দলের প্রতি দোষ চাপানো ঠিক হবে না। আমরা পুরো দল মিলে ভালো খেলতে পারেনি। তাই শুধু এনামুলের ওপর দোষ চাপানো বোকামি হবে।’
এনামুলের এই প্রত্যাবর্তনই একদম নতুন আলো ছড়াচ্ছে জাতীয় দলের ওপেনিং জুটিতে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে সফল হতে পারেননি তিনি, তবুও দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে এনামুলের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর এখনো দলে আস্থার পর্দা মেলেনি, তবে সুযোগ পেলে তার সেরাটা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট দলের ওপেনিং ব্যাটিং একেবারেই টিকে থাকা কঠিন। জাকির ও মাহমুদুল মাঝে মাঝে ভালো ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকতা নেই। এই ভাঙা বেসামাল দলকে সামলানোর জন্য এনামুলের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের প্রয়োজন। দেশের ব্যাটিং বিভাগে স্থিতিশীলতা আনতে দলের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব হলো তার প্রতি সহানুভূতি রেখে যথাযথ সুযোগ দেওয়া।
অবশ্য ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করছেন এনামুল আরও পরিশ্রম করবেন এবং নিজের গুণীতা দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা নিশ্চিত করবেন। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া মানে হারানো নয়, বরং নতুন করে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। এনামুল হকের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য, কারণ তাঁর ব্যাটিং রেকর্ড এবং অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, তিনি জাতীয় দলের জন্য অপরিহার্য একটি অস্ত্র।
সুতরাং জাতীয় দলের ওপেনিং জুটিতে এনামুল হকের উপস্থিতি এখনো এক সম্ভাবনার গল্প, যা আসন্ন টেস্ট সিরিজ ও ভবিষ্যতের মঞ্চে আরও জোরালো হবে বলে আশা করা যায়।
সূত্র: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, সংবাদ সম্মেলন, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান।