সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের কেউ যদি ছাত্রলীগের মতো আচরণ করে, তাহলে তাদের ভাগ্যও ছাত্রলীগের মতোই নির্ধারিত হবে।
এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ইলিয়াস হোসাইনের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে কমেন্ট করেন, কেউ কেউ আবার কৌশলে সতর্কবার্তাও দেন। মাহমুদুল হক জালীস নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘ক্লিয়ার কথা। লীগের মতো আচরণ যারাই করবে, তাদেরই চিহ্নিত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।’ আরেকজন, মুহাম্মাদ মুর্তাজা আলী, লেখেন, ‘কোনো ফ্যাসিবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ। সেটা যে দলেরই হোক।’ অন্যদিকে, সরকার সবুজ আহমেদ নামের একজন নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।
ইলিয়াস হোসাইনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করা এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা এই দুই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইলিয়াস হোসাইনের এই মন্তব্য মূলত দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষার ইঙ্গিত বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ এনে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি। কিন্তু এই সতর্কবার্তার পেছনে রাজনৈতিক কোনো গভীর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।
এদিকে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের একাংশ এই বক্তব্যকে সমর্থন করলেও অন্যরা এটিকে হঠাৎ আক্রমণ হিসেবেই দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের একই কাতারে ফেলে সতর্ক করা হলো? কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক কৌশল বললেও, অনেকেই বলছেন, এটি মূলত দুই সংগঠনকেই নিজেদের আদর্শগত অবস্থানে শক্ত থাকতে উৎসাহিত করার একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা।
ইলিয়াস হোসাইন এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন এবং তার মন্তব্য প্রায়শই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলে। তবে এবার তার বক্তব্য কেবল ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, বরং বিরোধী শিবিরের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ইঙ্গিতও বহন করে। ফলে, এই স্ট্যাটাসের প্রভাব কতদূর পর্যন্ত গড়াবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।