বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
দশ বছর পর জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার ফিরছে আজ!
অনলাইন ডেস্ক
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় বাতিল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান—নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দিয়েছেন তাৎক্ষণিক স্ট্যাটাস।
রবিবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আপিল বিভাগের রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি লেখেন, ‘‘আলহামদুলিল্লাহ! হাইকোর্টের ন্যায়বিচার বঞ্চিত রায়কে আজ চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বাতিল করেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে কৃতজ্ঞচিত্তে মাথা নত করি—আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। এখন পরবর্তী ধাপ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংযুক্ত। আমরা মহান রবের সাহায্য কামনা করি—যাতে দ্রুতই আমাদের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি। আমিন।’’
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন নাগরিক। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আপিলের অনুমতি দিয়ে দেন আদালত, যা একই বছরের মধ্যেই আপিলে পরিণত হয়।
এরপর, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের করা নিয়মিত লিভ টু আপিল ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর খারিজ হয়ে যায়, কারণ সেদিন আদালতে দলটির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আপিল বিভাগ মামলাটি ডিফল্ট হিসেবে খারিজ করে দেন। পরে সময়সীমা মাফ করে আপিল ও লিভ টু আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন জানায় জামায়াত, যা ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর মঞ্জুর হয়।
পরবর্তীতে আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয় এবং ৩ ডিসেম্বর শুরু হয় শুনানি। একাধিক দিনের শুনানি শেষে ১ জুন রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। সেই মোতাবেক আজ প্রকাশিত হলো বহু আলোচিত রায়, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা সর্বস্তরে —গণমাধ্যম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।