শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে ১০ জন প্রাণ হারান। সেখানে জড়ো হওয়া মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটে। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় অন্তত ৯৬ জন আহত হয়েছেন।
উত্তরের শহর স্কারদুতেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ইসলামাবাদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ রেড জোনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
লাহোর ও পেশোয়ারেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। লাহোরে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। পেশোয়ার প্রেস ক্লাবের সামনেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাব সরকার ও ইসলামাবাদ প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। জনসমাবেশ, মিছিল এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।