শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে আরও ছয় হাজারের বেশি সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এই তথ্য একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।
গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে আইএইএ’র ৩৫ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস একটি প্রস্তাব পাস করার পর, তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে এই প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল।
এ প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে ভারামিন এবং তুরকুজাবাদে ইউরেনিয়াম কণার উপস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে সেই উপাদানগুলোর বর্তমান অবস্থান জানাতে হবে। তেহরানকে আইএইএ ইন্সপেক্টরদের ইরানের সমস্ত পারমাণবিক স্থানে প্রবেশাধিকারও দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইরানকে তার পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পর্কে একটি ‘সম্পূর্ণ এবং হালনাগাদ মূল্যায়ন’ প্রদান করতে হবে, যা পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তুলে ধরা হতে পারে।
পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, ইরান ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ব্যাখ্যা দেয়নি। সাধারণত ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ৯০ শতাংশ পরিশুদ্ধতার নিকটে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।
বর্তমানে ইরানের নাতাঞ্জ ও ফরডোতে এবং নাতাঞ্জের মাটির উপরের একটি পাইলট কেন্দ্রে ১০ হাজারেরও বেশি সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে। এখন তারা আরও ছয় হাজার সেন্ট্রিফিউজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের পাস করা রেজুলেশনের প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, যদি ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে দেশটি তার পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপর থেকে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে আবারও হুমকি দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে আমি সব কিছু করব।” তিনি আরো বলেন, “এ জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা আমি ব্যবহার করব।”
এর আগে, মঙ্গলবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যে দিন লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, তার পরবর্তী দিন থেকেই তারা ইরানকে লক্ষ্য করবেন। তবে তিনি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।