সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভের ঘটনায় তিন দিনে প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গতকাল বুধবার ইসলামাবাদ পুলিশ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করেছে।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ইমরান খান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দলের উচিত, রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত সংলাপ শুরু করা।
ইমরান খানের আহ্বানে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ইসলামাবাদের ডি-চকে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে তিনি ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। নির্বাচনের পর তিনি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
নির্বাচনের পর পিটিআই নিয়মিত বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজন করে যাচ্ছে, যদিও এসব দমন করার জন্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মঙ্গলবারের সমাবেশ ছিল নির্বাচনের পর রাজধানীতে পিটিআইয়ের সবচেয়ে বড় সমাবেশ।
পিটিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, তাদের ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী ও সমর্থক ইসলামাবাদে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা সরকারি বাধা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ উপেক্ষা করেন। সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে।
ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী নাসির রিজভী বলেন, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, গতকাল ভোরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের এক সদস্য ও আধা সামরিক বাহিনীর চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দমন করেছে।
ব্যাপক ধরপাকড় ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে শেষ পর্যন্ত পিটিআই তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। দলের পক্ষ থেকে গতকাল ভোরে কর্মসূচি বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।