বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
ইমরানকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানে নতুন রাজনৈতিক সংকট উন্মোচিত!
অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা’। বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির শীর্ষ নেতারা এটি একটি ঘৃণ্য ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইমরানকে ‘বিকল্পহীন’ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর দাবি করেন, ইমরানকে বাদ দিয়ে সেখানে গভর্নর শাসন আরোপের পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নে ইমরানের মতামতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে পেছনে ফেলার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, পিএমএল-এনের শীর্ষ নেতা আজমা বুখারি পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, ইমরানকে সরানোর পেছনে তার নিজের পরিবার ও দলের নেতারা রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইমরানের বোন আলীমা খান মুখ্যমন্ত্রী গান্দাপুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং পিটিআই দল এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
আজমা আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়া গত ১২ বছর ধরে দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের শাসনে রয়েছে, যেখানে পাঞ্জাবে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পিটিআই মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আক্রম জবাবে বলেন, পুরো সরকার এখন ‘ইমরানকে বাদ’ দেওয়ার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ইমরানকে ‘মাইনাস’ না করে বরং জনগণ তাকে আরও শক্ত অবস্থানে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, গত তিন বছরে পিটিআইকে ধ্বংস করার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। যারা এসব করছেন, একদিন তারা জনগণের কাছে দায়ী হবেন।
গান্দাপুর বলেন, ইমরানই হলেন পিটিআই। তাঁর ইচ্ছা হলেই এই সরকার এক মিনিটের মধ্যে বিদায় নেবে। তিনি জানান, বাজেট অনুমোদনে ইমরানের সই না থাকলেও প্রয়োজন হলে তা পরে সংশোধন করা যাবে।
পিটিআই অভিযোগ করেছে, একটি গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’ ও ‘গভর্নর শাসন’ জোরপূর্বক চাপানোর চক্রান্ত চলছে।
শেষে ওয়াকাস আক্রম পাঞ্জাব সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেন এবং বলেন, যারা ম্যান্ডেট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা ১ ট্রিলিয়ন রুপির দুর্নীতির দায় বহন করছে।
তিনি আরও বলেন, ইমরান খান শুধুমাত্র দলের নেতা নন, তিনি পাকিস্তানের জনগণের শেষ ভরসা।
তথ্যসূত্র : ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’