সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রেক্ষিতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, ‘ইরানকে এর জন্য মূল্য দিতে হবে’। অপরদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরায়েল retaliate করার চেষ্টা করলে তারা পুনরায় হামলা চালাবে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, হামাস, হেজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা ও ইরানের কমান্ডারদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বিশ্লেষণ করে বলছেন, ইরান ‘সিরিয়াস ড্যামেজ’ (গুরুতর ক্ষতি) ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাই এখন বড় প্রশ্ন হলো ইসরায়েল কিভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে এবং এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য কি পরিণতি ডেকে আনবে।
গত এপ্রিলে ইরান যখন ইসরায়েলে আক্রমণ করে, তখন তাদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কিছু প্রতিক্রিয়া দেখানো। তবে সেবার তাদের প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি এবং আমেরিকান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা ধ্বংস হয়েছিল। এবারের হামলাটি ভিন্ন; ইরান যথেষ্ট গুরুতর ক্ষতি করার চেষ্টা করছে এবং তাদের হামলার পদ্ধতিও আগ্রাসী।
ইসরায়েলিদের মনোভাব সম্পর্কে বলতে গেলে, এপ্রিলে নেতানিয়াহুকে বড় ধরনের পাল্টা হামলা করতে নিষেধ করেছিলেন জো বাইডেন। তখন নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ছিল পরিস্থিতি শান্ত রাখা। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন; ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা এ মুহূর্তে তাদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছে না।
এখন ইসরায়েলে ভিন্ন এক আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টুইট থেকে এটার একটি আভাস মেলে। তিনি লেখেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পাল্টে দেওয়ার এটা একটি বিশাল সুযোগ।” বেনেট ইসরায়েলের পরমাণু অবকাঠামোর ওপর আক্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন, তবে এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, এবং ভবিষ্যতে আবারও নেতৃত্বের সম্ভাবনা রয়েছে। তার বক্তব্য দেশটির কিছু নাগরিকের মনোভাবের প্রতিফলন করে।
বর্তমানে ইরানের অর্থনীতির ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন যেকোনো স্থানে ইসরায়েলের হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, বলেছেন জেরেমি বোয়েন। এটি হতে পারে তাদের পরমাণু প্রকল্প কিংবা পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায়।
ইসরায়েলের ‘সমস্ত অবকাঠামোতে’ হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুগ্ম প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি এই ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, “যদি ইসরায়েল আমাদের সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কিছু করে, তাহলে আজকের অভিযানের জবাব আরও শক্তিশালী হবে এবং তাদের সমস্ত অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হবে।” তিনি আরও জানান যে, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য প্রস্তুত।
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে হামলার পরিকল্পনা করছে, এবং স্থলভাগে যেখান থেকে মঙ্গলবারের হামলা হয়েছে সেই স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে। হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, এমনকি রিফুয়েলিং সেন্টারগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সমাপ্তির মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে, জো বাইডেন ভূমধ্যসাগরে আরও সৈন্য পাঠিয়ে ইরানকে সতর্ক করছেন, যে যদি ইসরায়েলের ওপর আঘাত আসে, তবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আঘাত হিসেবেও গণ্য হবে।
এসব কারণে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। চলমান অস্থিতিশীলতা এবং অশান্তির মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা আগুন দ্রুতই এক নরকে রূপ নিচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এই কারণে ইসরায়েল গুতেরেসকে নিজেদের দেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।