সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
ইরানে সরকারবিরোধী টানা আন্দোলনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পরিস্থিতি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান নজিরবিহীন এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তেহরানের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করে। দেশজুড়ে চলমান সহিংস গণ-আন্দোলনে মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রাণহানির পেছনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।
দেশটির নাজুক অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকেই মূলত এই আন্দোলনের সূচনা হয়। গত তিন বছরের মধ্যে এই পরিস্থিতিকে ইরানি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান বাড়তি চাপের মুখে পড়ে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্বৈত কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দাবিকে যৌক্তিক বলছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। অস্থিতিশীলতার জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সরকারের বক্তব্য, অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগেই কয়েকশ মানুষের মৃত্যু এবং হাজারো গ্রেপ্তারের আশঙ্কা জানিয়েছিল। কিন্তু দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ ও যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
রয়টার্স যাচাইকৃত সাম্প্রতিক ভিডিওতে রাতের আঁধারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, গুলির শব্দ এবং গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে।