শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছে, তবে এতে তাদের সেনারা বিপাকে পড়েছে। লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ এবার দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের ৭০ জন সেনাকে হত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
বুধবার হিজবুল্লাহর অপারেশন রুম থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের ৭০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে হিজবুল্লাহ ৫৫ জন সেনা হত্যার খবর জানিয়েছিল।
হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে সেনা হত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো জায়গা জানানো হয়নি। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের ভেতরে চালানো স্থল অভিযানে তারা প্রায় ২০ জন সেনা হারিয়েছে, আর হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলের উত্তরে আরও ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছে।
বিবিসির একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্য সর্বাত্মক যুদ্ধের খুব কাছাকাছি। গত এক বছরে বিশ্বে অনেক সংকট দেখা দিলেও এবারকারটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। ইসরায়েলি হামলায় সম্প্রতি হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু হয়। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ২০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল তেহরানে হামলার ঘোষণা দেয়।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো সংঘাত থামাতে চাপে রেখেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
জি-৭ শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ধৈর্যধারণের অনুরোধ জানিয়েছে, তবে কোনো প্রচেষ্টাই ফলপ্রসূ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। গত এক সপ্তাহে সংঘটিত ঘটনাগুলোই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের বোমা হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। মাটির নিচের বাংকার লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়ে এবং মাটিতে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। পুরো লেবাননজুড়ে সেই ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর আসে ইসরায়েলের এক সপ্তাহের হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর।
তারও এক সপ্তাহ আগে, হিজবুল্লাহর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক ওয়াকি-টকি ও পেজার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ৩২ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়।