শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
বাইডেন ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ শেষে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের হুঁশিয়ারি।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেছেন। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ইরানে ‘মারাত্মক, সুনির্দিষ্ট ও চমকে দেওয়ার মতো’ আঘাত হানার অঙ্গীকার করেছেন।
গত বুধবার বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট কথা হয়। আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে এই প্রথম দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন হলো।
দুই নেতার এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো যখন ইরান এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজার প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের সঙ্গেও সংঘর্ষ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।
বাইডেন ও নেতানিয়াহুর আলোচনাকে ‘অকপট ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আলোচনা চলাকালীন কিছু বিষয়ে দ্বিমতও ছিল, এবং দুই নেতা তাদের মতামত সপক্ষে তুলে ধরেন।
গত সপ্তাহে ইরান থেকে ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সেই হামলার জবাবে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। লেবাননের প্রতিরোধের মুখে ইরান হামলা চালিয়েছিল। যদিও সেই হামলায় ইসরায়েলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
বাইডেন ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের পরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের দপ্তর একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে গ্যালান্ট দাবি করেন, ইরানের ১ অক্টোবরের হামলা ব্যর্থ হয়েছে।
ওই ভিডিওতে গ্যালান্ট বলেন, ‘যে কেউ আমাদের ওপর হামলা চালাবে, সে পাল্টা আঘাত পাবে এবং এর পরিণতি বহন করতে হবে। আমাদের আঘাত হবে মারাত্মক, সুনির্দিষ্ট এবং চমকপ্রদ। তাঁরা জানতেও পারবে না কীভাবে এবং কখন আঘাত হলো। তাঁরা কেবল এর পরিণতিই দেখতে পাবে।’
চিরশত্রু ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেবার অঙ্গীকার করেছেন নেতানিয়াহুও। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো পাল্টা হামলা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনবে। এতে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকেও এই সংঘাতে জড়িয়ে নিতে পারে।
বাইডেন গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থাপন করার চেষ্টা করেও সফল হননি। গাজা যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল নিরাপদ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।
গাজায় আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় নিহত ২৮ জন
‘গণমাধ্যম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫৪ জন। বিদ্যালয়টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইসরায়েলি হামলায় ঘরবাড়ি হারানো মানুষজন সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার তীব্রতায় শিশু ও নারীদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এতে অনেকের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পোশাক বা অন্য কোনো চিহ্ন দেখে স্বজনেরা নিহতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৬৬ জন। এ নিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৪২ হাজার ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯৭ হাজার ৮৮৬ জন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে গতকাল বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে আগের দিন রাতে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।