শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ, এবং বাকি ৯টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক অবরোধের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট নামের একটি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
তদন্তে জানা যায়, নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার প্রায় ৫২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৪৩টি কারখানা শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিছু কারখানার গেটে ১৩(১) ধারার নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। এছাড়া, জেনারেশন নেক্সটের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
সড়ক অবরোধ করা শ্রমিকদের দাবি, অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি জানালেও তারা উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্য কারখানার শ্রমিকরা তাদের কারখানায় এসে বিশৃঙ্খলা করলেও তারা কাজ করেছেন। তবুও কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মাসের বেতন ও চলতি মাসের বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ রেখেছে তারা। ফলে শ্রমিকরা বাসা ভাড়া ও দোকানের বাকি শোধ করতে পারছেন না, বাড়িওয়ালা ও দোকান মালিকদের কটুক্তি সহ্য করতে হচ্ছে। আগেও প্রশাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ বেতন দেয়নি, তাই আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গতকাল থেকেই এ অঞ্চলে বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ৫২টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ আছে, যার মধ্যে ৪৩টি কারখানা শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় বন্ধ রয়েছে।
আশুলিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে, এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, আজ আশুলিয়ায় ৫২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি কারখানা ১৩(১) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।