সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশে একজনের শরীরে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ নওশের আলম। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির পাশাপাশি আরেকটি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এইচএমপিভি। ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে চীনে প্রথমবারের মতো এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জাপান, মালয়েশিয়া এবং ভারতেও এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রকৃতির এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এইচএমপিভি করোনা ভাইরাসের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই ভাইরাস নিয়ে কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করেনি।
করোনার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথমবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছিল। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এ ভাইরাস ২১৩টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৭ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৩ জন আক্রান্ত হন। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫১২ ছাড়িয়ে যায়। এখন বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, ২০২৫ সালে করোনার মতোই আরেকটি নতুন মহামারি দেখা দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বার্তা নেই, তবে এইচএমপিভির বর্তমান প্রাদুর্ভাব চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এইচএমপিভি মৌসুমী ফ্লুর মতো আচরণ করে। ভাইরাসটির প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা। তবে এটি মানবদেহের জন্য কতটা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।
২০০১ সালে প্রথমবার দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) আবিষ্কৃত হয়। গবেষণায় জানা যায়, ভাইরাসটি আবিষ্কারের ৬০ বছর আগেই মানবদেহে প্রবেশ করেছিল। ফলে এটি নতুন ধরনের ভাইরাস নয়। মূলত ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু এবং বয়স্করাই এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। সম্প্রতি চীনে এ ভাইরাসের প্রকোপে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে।
আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরীন বলেন, এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয় এবং বাংলাদেশে এর জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কোভিড-১৯ একেবারে নতুন ধরনের ভাইরাস হওয়ায় তার প্রভাব ছিল ভিন্ন এবং ব্যাপক। তবে এইচএমপিভি শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো সাধারণ সর্দি-কাশির লক্ষণ সৃষ্টি করে।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, নাক বন্ধ হওয়া, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা বা কানে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, ভাইরাসের সংক্রমণ এতটাই তীব্র হতে পারে যে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
আইইডিসিআর-এর মতে, শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটানো অন্যান্য ভাইরাসের মতোই এইচএমপিভি কাজ করে। তবে এটি কোনো ভয়াবহ সংকটের কারণ হবে কিনা, তা নির্ভর করবে ভাইরাসটির ভবিষ্যৎ আচরণের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসগুলোর ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও তথ্য আহরণই ভাইরাসটির প্রকৃতি এবং প্রভাব নির্ধারণে সাহায্য করবে।