শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ দপ্তরে এই ঘোষণা দেন তিনি। একই সময় তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বরিশালের সন্তান। বরিশাল ও এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার ভালোবাসা ও আবেগ রয়েছে। তবে পরিচালক হিসেবে আমি আর দায়িত্ব পালন করব না।’
পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চার দফা দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন, যার ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছনার প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মধ্যম সারির চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুমকি দেন। এ বিষয়ে আলোচনা করতে শনিবার সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। তৃতীয় তলায় হওয়া বৈঠকে পরিচালকসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, মহানগর পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি অংশ নেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন, যার বাস্তবায়নের দাবি জানান। পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিশ্রুতি চান। লিখিত না দেওয়ায় তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশু জুনায়েদ (৮) মারা যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর ভর্তি হওয়া শিশুটির মৃত্যুর পর তার মা সাথী আক্তার চিকিৎসক ও নার্সদের গালমন্দ ও লাঞ্ছিত করেন। ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম ওই রাতেই কোতোয়ালি থানায় মামলাও করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে যান।
তাঁদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অপরাধীদের গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তায় আনসারের সংখ্যা তিন গুণ বৃদ্ধি এবং ৩০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ; অতিরিক্ত রোগী ভর্তি বন্ধ এবং প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একজন স্বজনের অনুমতি; এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে আজ রোববার কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা।
পরিচালকের পদত্যাগের খবরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা উল্লাস করেন এবং কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছেন। তাঁদের দাবি, একজন যোগ্য ব্যক্তিকে পরিচালকের দায়িত্ব দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ৩ আগস্ট পরিচালকের সমর্থনে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সমাবেশ করেন। তাঁরা পরিচালকের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের অভিযোগও করেন।
হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘পরিচালকের পদত্যাগপত্র পেয়েছি এবং মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’