শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
তিস্তা চুক্তি: ভারতের টালবাহানা, চীনের আগ্রহ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
শাকিল, স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর
জামালপুরে “তিস্তা নদী: আমার অধিকার-সমস্যা ও প্রতিকার” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের নদী সংকট, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন নদী গবেষক ইঞ্জিনিয়ার এম হাফিজুর রহমান লিটন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার মো. খায়রুল আলমসহ অন্যান্য বক্তারা তিস্তা চুক্তির দীর্ঘসূত্রিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণেই তিস্তা চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতায় ভারত সরকার দীর্ঘদিন চুক্তি নিয়ে কালক্ষেপণ করেছে। বাংলাদেশ যখন তিস্তা ইস্যুতে বিকল্প সমাধানের জন্য চীনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, তখনই ভারত নড়েচড়ে বসে। চীন সরকারের আগ্রহ দেখানোর পর ভারত নিজেকে অনিরাপদ মনে করতে শুরু করে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কৌশল নেয়।
তবে বক্তারা সতর্ক করেন, ভারতের সাথে এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না যা বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। চীনের সাথে তিস্তা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে ভারতের সাথে তথ্য আদান-প্রদান, জরিপ, গবেষণা চালানো যেতে পারে, তবে চীনকে বাদ দেওয়া হবে কৌশলগত ভুল।
বক্তারা আরও বলেন, ভারতকে অগ্রাহ্য করা হবে না, তবে তাদের স্বার্থে চুক্তির গতিপথ বদলানোও ঠিক হবে না। তিস্তা চুক্তির জট খুলবে কবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বাংলাদেশকে এখন কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে—এমনটাই মতামত ব্যক্ত করেন বিশ্লেষকরা।