রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও তা ফের চালুর দাবিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক, দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান এখনও টানটান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্রদলের কর্মীরা রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিতে লিফলেট বিতরণ শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’ স্লোগানে মিছিল বের করে। তাদের দাবি, কুয়েটে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ঠাঁই হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা প্রতিবাদকারীদের পথ রোধ করে। মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষের ঢেউ কুয়েটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বহিরাগতরা এসে ছাত্রদলের পক্ষ নেয়। পকেট গেট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কায়দায় নৃশংস হামলা চালাচ্ছে। এতে তারা নিজেদের রাজনৈতিক কবর রচনার পথেই এগোচ্ছে।’
এদিকে, খানজাহান আলী থানার ওসি কবির হোসেন জানিয়েছেন, ‘কুয়েটে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ থামেনি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।