সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
জুলাই গণ অভ্যূত্থানের পর, যখন জনগণের মধ্যে দেশ ও সমাজের ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাসের সূচনা, তখন বগুড়ার দক্ষিণ বৃন্দাবন পাড়ায় অবৈধভাবে বাড়ী দখলের চেষ্টায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ই ডিসেম্বর অভিযোগকারী জহুরুল ইসলাম বীকন এর বসতবাড়ী দখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীগোষ্ঠির ইন্ধনে আওয়ামী শীর্ষ সন্ত্রাসী কসাই মতিনের বাহিনী হামলার সাথে জড়িত। যার নেতৃত্ব দান করেন কসাই মতিনের বিয়াই ও সাবেক কাউন্সিলর ৩নং ওয়ার্ড ও বিএনপি নেত্রী নিলুফা কুদ্দুসের স্বামী “বীরু” সহ ৪০ থেকে ৫০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী।

ভুক্তভোগী জহুরুল হক জনতার জাগরণ কে জানান, হামলাকারীরা তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে বাড়ী খালি করার হুমকি দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে ফুলবাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ জনাব, আলমাস সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নেন।
পরবর্তীতে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে অবৈধ দখল ব্যর্থ হলে জনাব, আলমাস ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে দরবার করেন এবং জমি পুনরায় মাপার সিদ্ধান্ত দেন যা স্থানীয়দের মতে, তার এখতিয়ার বহির্ভূত সিদ্ধান্ত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী গত ১৬ই ডিসেম্বর ২০২৪ একটি অভিযোগপত্র সদর থানায় জমা দিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার, বগুড়া এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনতার জাগরণকে জানান, থানায় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয় না। জায়গা জমি সংক্রান্ত কোন জটিলতার সমাধানে বিজ্ঞ আদালতে যাবেন অথবা টিএনও বা ডিসি সাহেব কে জানাতে হবে।
বিএনপি নেত্রী নিলুফা কুদ্দুসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক শহীদুন্নবী সালাম জনতার জাগরণকে জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই বগুড়া জেলা বিএনপি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আওয়ামী সন্ত্রাসী কসাই মতিন নিলুফা কুদ্দুস এবং তার স্বামী বীরু’র আপন বিয়াই। আওয়ামী সন্ত্রাসী কসাই মতিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনাব কেএম খায়রুল বাশার, সাংগাঠনিক সম্পাদক, বগুড়া জেলা বিএনপি।
অভিযোগ গ্রহণের ব্যাপারে ওসি, বগুড়া সদর সাইহান ওলিউল্লাহ্ জনতার জাগরণকে বলেন, হয়তো অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু থানায় প্রতিদিন প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, ভুক্তভোগী সরাসরি যোগাযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণের অধিকার রক্ষা করতে এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয় যে, একদিকে যখন জনগণ গণ অভ্যূত্থানের মাধ্যমে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে, তখন কিছু অসাধু শক্তি এখনও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।