বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
থানায় মামলা নেই, জনতার বিশ্বাস খারাপ!
শাওন সরদার, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক পুলিশ সদস্যের গ্রামের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করার কথা জানিয়েছে ওই পুলিশ সদস্যের পরিবার।
তবে পুলিশ এ ঘটনাকে চুরি আখ্যা দিয়ে ডাকাতির মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, ‘এটা ডাকাতি নয়, চুরি।’
শনিবার (০১ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের নাম মুরাদ হোসেন। তিনি ওই গ্রামের নাজিম উদ্দিন মোল্যার ছেলে। মুরাদ হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত আছেন।
পুলিশ সদস্যের মাতা মমতাজ বেগম বলেন, শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দোতলা ভবনের নিচতলার পূর্ব পাশের জানালার থাইগ্লাস ভেঙে গ্লীল কেটে অজ্ঞাতনামা দুইজন হাফপ্যান্ট পরিহিত ডাকাত ঘরে প্রবেশ করেন। পরে আমাকে ও আমার পুত্রবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে আমার পুত্রবধূর দুই কানে থাকা পাঁচ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল (বাজারমূল্য ৫৫ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভবনের বাইরে আরো অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের একটি ডাকাতদল পাহারায় ছিল।
এদিকে ডাকাতির ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে থানা পুলিশের রাত্রিকালীন টহলরত একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলেন। রোববার (১ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের মাতা মমতাজ বেগম অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলের বিরুদ্ধে এজাহার নিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাকে চুরি উল্লেখ করে মামলা করতে বলেন। ডাকাতি উল্লেখ করলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ডাকাতদল মুখোশ পরে, অস্ত্র হাতে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেল। অথচ পুলিশ বলছে ডাকাতির মামলা নেবে না। কিন্তু আমি ডাকাতির ঘটনার বিচার চাই, চুরির নয়।’
আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ডাকাতি মনে হয়নি। চুরি হতে পারে। তাই ডাকাতির অভিযোগে এজাহার নেওয়া হয়নি।’
ডাকাতি ও চুরির পার্থক্য আছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কমপক্ষে পাঁচজন লোক ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তাকে ডাকাতি বলা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় দুইজন লোক ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার লুটপাট করেছে। এছাড়া কোনো ভাঙচুর হয়নি, তেমন অস্ত্র ছিল না, তাই এই ঘটনাটি ডাকাতি নয়। এটা চুরি। বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন স্যারেরা জানেন। সে মোতাবেক ডাকাতি নয়, চুরি হিসেবে অভিযোগ দিতে বলেছি।’