1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম কমবে কবে? কষ্টের শেষ কোথায়? - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আপিল শুনানির প্রথম ঘণ্টায় পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ তেজতুরী বাজারে মোসাব্বির হত্যা: রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেপ্তার নির্বাচনে কোনো দলের জন্য বাড়তি সুযোগ নেই: প্রেস সচিব ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬ প্রার্থিতা বাতিল ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় ইসির নতুন পরিপত্র জারি আগামী বাজেট থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত বাংলাদেশ, বাড়ল ভ্রমণ জটিলতা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সারজিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শরিফ হাদি হত্যা, চার্জশিট দিল ডিবি

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম কমবে কবে? কষ্টের শেষ কোথায়?

  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৮৫ বার পঠিত
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, তেল, চিনি, ডিম, আলু, মাংস, সবজির লাগামহীন দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি পণ্যের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক মাস পর গত ৫ই সেপ্টেম্বর সরকার প্রথমে আলু ও পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে পণ্য দু’টির শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়। আলুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, পাশাপাশি প্রযোজ্য ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়। একইভাবে পিয়াজের ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেপ্টেম্বরে এসব পণ্যের দাম কমার বদলে আরও বেড়ে যায়। ৫ই সেপ্টেম্বরের আগে বাজারে পিয়াজের প্রতি কেজির দাম ছিল ১০৫ থেকে ১২০ টাকা। শুল্ক কমানোর পর দাম হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অন্যদিকে আলুর দামও শুল্ক ছাড়ের পর কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। ফলে সরকারের শুল্ক কমানোর উদ্যোগের সুফল ভোক্তাদের না পৌঁছে ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিচ্ছেন।

এদিকে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের অবস্থা নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি কাঁচা পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে মানুষের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির অজুহাতে শাক-সবজির দাম বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি ডিমের বাজারেও চলছে তুঘলকি ব্যবসা। বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে, এবং আমদানি শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে চিনির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অর্ধেক কমিয়েছে। বুধবার এনবিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির আমদানির জন্য বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, শুল্ক কমানোর সুফল ভোক্তাদের হাতে আসবে কি না। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সরকার শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে, তাহলে ভোক্তাদের জন্য সুফল আশা করা বাতুলতা। এজন্য বাজার তদারকি করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে, নইলে আবারও ব্যবসায়ীরা সুবিধা লাভ করবে।

এটা নতুন নয় যে ভোক্তারা শুল্ক কমানোর সুফল থেকে বঞ্চিত হন: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার চিনি, চাল, তেল ও খেজুরের শুল্ক কমিয়েছিল। কিন্তু তাতেও বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি; বরং এসব পণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুল্ক কমানোর পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, আর খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১৪৮ টাকা। সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছিল ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। অন্যদিকে শুল্ক কমানোর আগে সয়াবিন তেল এবং চিনির দাম ছিল একই। তবে চিনির দাম ছিল অপেক্ষাকৃত কম। শুল্ক কমানোর আগে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং সাধারণ মানের খেজুরের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। গত বছরের অক্টোবরেও সরকার অপরিশোধিত চিনির আমদানিতে শুল্ক ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরিশোধিত চিনির শুল্ক ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করেছিল। তখন সরকার প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ১৩০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু শুল্ক কমানোর পর কেজি প্রতি চিনির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় চলে যায়। সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলেও শুল্ক কমানো হয়েছিল। আগের বছর সরকার সয়াবিন ও পাম অয়েলের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভোজ্য তেলের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানো হয়েছিল। তখন ভোক্তাদের মনে আশা জেগেছিল যে ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমবে। কিন্তু বাস্তবে ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পরও লিটারে সয়াবিন তেলের দাম মাত্র ৮ টাকা কমানো হয়। ফলে ভোক্তাদের কাছে শুল্ক কমানোর সুফল সবসময় অগ্রাহ্য হয়ে যাচ্ছে।

এবার কি বাজারে শুল্ক ছাড়ের প্রভাব পড়বে? বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারে ভোক্তারা শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবেন না। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তিত হলেও সরকারি কর্মকর্তারা তাদের পুরনো অবস্থানে রয়ে গেছেন। তারা পূর্ববর্তী সরকারের আমলেও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়েছেন এবং নিজেদেরও সুবিধা নিয়েছেন। ভোক্তাদের বিষয়টি তাদের মাথায় থাকে না। গত মাসে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ানো হয়। কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে জানান, সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করে বসে থাকে, তাহলে ভোক্তাদের কোনো সুফল মিলবে না। আগের মতো ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবে। ২৯টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার বাজারে প্রভাব চোখে পড়ছে না। তিনি বলেন, ভোক্তাদের শুল্ক কমানোর সুফল তখনই মিলবে, যখন সরকার জানবে তাদের দায়িত্ব শুধুমাত্র শুল্ক কমানো এবং দাম নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এস এম নাজের হোসাইন আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আগের ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে আসা কর্মকর্তারা এখনো রয়েছেন। তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। তাই আমলারা তাদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসতে পারছেন না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করে জিনিসের দাম বাড়াতে থাকে। প্রতিযোগিতা কমিশন নামে থাকলেও কার্যক্রম নেই। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এই কারণে বাজার এখনও নিয়ন্ত্রণহীন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..