সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
ত্বকের যত্নে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকি। তবে অনেক সময় আমরা বুঝে বা না বুঝেই ক্রিম ও লোশন ব্যবহার করি। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্রিম ও লোশন পাওয়া যায়, যা অনেকেই ত্বকের যত্নে কিনে থাকেন। কিন্তু জানেন কি, ক্রিম ও লোশন এক জিনিস নয়? এই দুটি পণ্যের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য, যা ত্বকে কাজ করার পদ্ধতিতেও ভিন্নতা আনে।
ক্রিম ও লোশনের মধ্যে পার্থক্য
বেশিরভাগ সময় ত্বকে শুষ্কতা বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিলে আমরা দ্রুত কোনো ক্রিম বা লোশন কিনে নিই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ক্রিমের যে কার্যকারিতা, লোশন কি একইভাবে কাজ করবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিম ও লোশনের গঠনে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

লোশনের মূল উপাদান হলো পানি। তাই লোশন সাধারণত হালকা ও তরল প্রকৃতির হয়। এটি সহজে ত্বকে মিশে যায় এবং ত্বককে শীতল রাখে। অন্যদিকে, ক্রিমে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে এবং পানির মাত্রা কম থাকে, যা ক্রিমকে ঘন ও ভারী করে তোলে। ফলে এটি শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা যোগায় এবং ত্বককে কোমল রাখে।
কোনটি ব্যবহার করবেন?
আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়, তবে অয়েল বেসড ক্রিম ব্যবহার করাই ভালো। এটি ত্বকে গভীর আর্দ্রতা যোগায় এবং দীর্ঘক্ষণ ময়েশ্চার ধরে রাখে। অন্যদিকে, তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য জলীয় ভিত্তির লোশন আদর্শ। কারণ এটি ত্বককে ভারী না করে আর্দ্রতা দেয়।
আরও পড়ুন: দুধ ছাড়াই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে এই ১০টি ফল
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা লোশন ব্যবহার করা ভালো, কারণ এটি হালকা এবং ত্বকে দ্রুত শোষিত হয়। রাতের বেলা ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক গভীর থেকে পুষ্টি পায়। সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময়ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেছে নেওয়া উচিত—শুষ্ক ত্বকের জন্য অয়েল বেসড এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ওয়াটার বেসড লোশন।
আরও পড়ুন: কালিজিরার জাদু: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন খান
সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং ব্যবহার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ত্বকের ধরন ও আবহাওয়া বিবেচনা করে ক্রিম ও লোশন ব্যবহার করুন, এবং প্রতিদিনের যত্নে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।