রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
হারবাল শ্যাম্পু মানেই নিরাপদ নয়: চুল রুক্ষের আসল রহস্য ফাঁস
অনলাইন ডেস্ক
বাজারে হারবাল নামধারী শ্যাম্পুর ছড়াছড়ি। একদিকে মানুষ কেমিকেলমুক্ত জীবনের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে চুলে রুক্ষতা, নিষ্প্রাণ ভাব, এমনকি চুল পড়ার মতো সমস্যাও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কেন? হারবাল পণ্যে তো এমনটা হওয়ার কথা নয়! ঠিক এখানেই কৌশলে লুকিয়ে আছে বড় একটা ফাঁদ, যা ভেঙে দিলেন রূপবিশারদ ও রন্ধনশিল্পী রাহিমা সুলতানা রিতা।
তিনি বললেন, “সব হারবাল শ্যাম্পু এক নয়। অনেক পণ্যের মোড়কে ‘হারবাল’ লেখা থাকলেও ভেতরে থাকে অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট আর কৃত্রিম সুগন্ধি, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে রুক্ষ করে তোলে।”
১. ‘হারবাল’ নামেই ফাঁকি:
অনেক হারবাল শ্যাম্পুতে সোডিয়াম লরিল সালফেট (SLS), প্যারাবেন, বা সিনথেটিক ফ্র্যাগরেন্স থাকে। এই উপাদানগুলো চুলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়াল ধ্বংস করে দেয়।
২. অতিরিক্ত ব্যবহার:
প্রাকৃতিক উপাদান মানেই বেশি ব্যবহার করলে ভালো হবে—এই ভুল ধারণা চুলের ক্ষতি ডেকে আনে। যেমন রিঠা বা শিকাকাই অতিরিক্ত ব্যবহারে আর্দ্রতা হারায় চুল।
৩. নন-কন্ডিশনিং ফর্মুলা:
সব হারবাল শ্যাম্পু কিন্তু কন্ডিশনিং বৈশিষ্ট্যযুক্ত নয়। সেক্ষেত্রে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায় যদি আলাদা কন্ডিশনার না ব্যবহার করা হয়।
৪. শুষ্ক আবহাওয়া:
শীত বা শুষ্ক সময়ে চুল এমনিতেই রুক্ষ হয়। তখন হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে সমস্যা আরও বাড়ে।
রাহিমা রিতা জানালেন, “রিঠা ভেজানো পানি, চায়ের লিকার, অ্যালোভেরা জেল—এই সবকিছুই দারুণ প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করে। এগুলো ব্যবহার করলে রাসায়নিকজাত কন্ডিশনারের প্রয়োজনই পড়ে না।”
আরো একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে তিসির জেল।
দুই চামচ তিসে দেড় কাপ পানি দিয়ে জ্বাল দিন। ঠান্ডা করে জেলটিকে শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। চুল হবে নরম, মসৃণ এবং প্রাণবন্ত।
শেষ কথা: হারবাল মানেই ভালো—এই ধারণার দিন শেষ। সঠিক জ্ঞান আর সচেতন পছন্দই দিতে পারে আপনার চুলকে কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য। তাই পরেরবার শ্যাম্পু কেনার আগে শুধু “হারবাল” লেখা দেখে নয়, বরং উপাদান দেখেই সিদ্ধান্ত নিন। চুলের সত্যিকারের বন্ধুত্ব আজ থেকেই শুরু হোক!