সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
চুলে রঙের ঝলক না হয়ে যেন না হয় দুঃস্বপ্নের গল্প!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন লুক মানেই কি চুলে রং? তবে সাবধান! আপনি জানেন কি, ট্রেন্ডি হেয়ার কালার আপনার চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে? হ্যাঁ, স্টাইলের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে আপনি অজান্তেই চুলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন!
হেয়ার ডাইয়ের অনেকগুলো ব্র্যান্ডে ব্যবহৃত হয় অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মতো তীব্র রাসায়নিক। এসব উপাদান স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়, ফলে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ, দুর্বল ও ভঙ্গুর। চুলের গোড়া আলগা হয়ে চুল ঝরে পড়া শুরু হয়। যারা ব্লিচ করে চুল রং করেন, তাঁদের ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি।
শুধু চুল নয়, মাথার ত্বকেও দেখা দেয় জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জির সমস্যা। রং করার পর যদি স্ক্যাল্পে চুলকানি বা পোড়া ভাব হয়, বুঝতে হবে রংটি আপনার জন্য ক্ষতিকর। সময়মতো সাবধান না হলে, একসময় চুল হয়ে যেতে পারে এতটাই পাতলা যে স্টাইল তো দূরের কথা, চুল বাঁচানোই হয়ে দাঁড়ায় চ্যালেঞ্জ।
তবে ক্ষতি শুধু আপনার শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়। হেয়ার ডাইয়ের রাসায়নিক উপাদান পানিতে মিশে দূষণ ছড়ায়। যা পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
এতসব সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় কী?
প্রথমেই চুল রং করার আগে কিছু সচেতনতা দরকার।
১. অ্যামোনিয়া ও ক্ষতিকর রাসায়নিকবিহীন প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করুন। মেহেদি, অর্গানিক ডাই হতে পারে নিরাপদ বিকল্প।
২. রং লাগানোর আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন। এতে চুল বা ত্বকে অ্যালার্জি হবে কি না আগে থেকেই বুঝতে পারবেন।
৩. নিজের হাতে না রং করে অভিজ্ঞ হেয়ার স্টাইলিস্টের সাহায্য নিন। তাঁরা জানেন কোন চুলে কোন রং উপযোগী।
চুলে রং করা মানেই ট্রেন্ডি হওয়া নয়, নিজের যত্ন নেওয়াও ফ্যাশনের অংশ। সতর্ক হোন, সচেতন হোন, স্টাইল করুন – তবে নিজের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে ভুলে নয়!