সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
সাজের রাজকীয়তা বাড়াতে ওড়নায় চাই গল্প, শেড আর শৈল্পিক ছোঁয়া!
অনলাইন ডেস্ক
রূপকথার সাজে ‘ওড়না’ এখন শুধু অনুষঙ্গ নয়, একেকটা শিল্পকর্ম!
কনের বিয়ের সাজে এখন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে একটিমাত্র অনুষঙ্গ—ওড়না। কেউ কেনা ওড়নায় যোগ করছেন নিজের মনের মতো কবিতা, কেউ বা নাম-খোদাই করে গড়ে তুলছেন একান্ত আবেগের চিহ্ন। দীপিকা পাড়ুকোনের বিয়ের সেই ক্লাসিক জরির পাড়ের ওড়না যেন খুলে দিয়েছে নতুন ধারার দুয়ার। এখনকার কনেরা ওড়নাকে নিজের গল্প বলার মাধ্যম করে তুলছেন।
এক নয়, দুই নয়, কখনো তিন ওড়নাও চলছে!
লেহেঙ্গা বা শাড়ির সঙ্গে এখন একাধিক ওড়নার ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে লেয়ারিংয়ের ভিজ্যুয়াল জাদু। মাথায় থাকছে একটা, আরেকটা কাঁধে বা হাতে, যেন প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ভঙ্গিতে এক নতুন কনেকে ধরা যায়। দুটো ওড়না কখনো একই উপকরণের, আবার কখনো একেবারে বিপরীত ধাঁচের—সবটাই কনের আরাম আর স্টাইলের ওপর নির্ভর।
লম্বা, শেডি, স্টাইলিশ—ওড়নার নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট!
প্রচলিত আড়াই গজ নয়, এখন কনের ওড়না ১১–১২ গজ পর্যন্ত লম্বা হচ্ছে! নেট বা মসলিনে তৈরি এই ঝলমলে টুকরো কাপড় মাটিতে গড়িয়ে যেন গল্প বলে যায়। এমনকি কেউ কেউ ছবি তোলার সময় মুখ আড়াল করেন এই ওড়নায়, যার ফলে লেন্সে ধরা পড়ে এক অনন্য সৌন্দর্য। রঙের দিক থেকেও এসেছে বৈচিত্র্য—একাধিক শেড, দুই-তিন রঙের গ্রেডেশন, আবার কখনো সাদামাটা রঙে বিডস, ট্যাসেল বা জারদৌসির কাজ।
নতুন মোটিফে এসেছে প্রকৃতির ছোঁয়া
ডিজাইনাররা জানাচ্ছেন, হরিণ, পাখি, গাছ, এমনকি বাঘ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ওড়নার নকশায়! জারদৌসি বা খাড়ি কাজের মাধ্যমে এই মোটিফগুলো ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এ ধরনের নকশা শুধু বিয়েতে নয়, পরে ব্যবহার করার মতোও।
পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ধারা মিলিয়ে কনেদের নিজস্বতা
অনেকেই দাদি-মায়ের পুরোনো ওড়নাকে নতুন করে বানিয়ে পরছেন, এতে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক ছোঁয়া। চিকন পাড়ের বাইরে মোটা পাড়, ঢেউখেলানো ডিজাইন, এমনকি কাচ-ফুলের ওড়নাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
আজকের কনেরা আর ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন না, তারা নিজেরাই ট্রেন্ড তৈরি করছেন। তাই তো বিয়ের দিনের ওড়নাটাও যেন হয়ে উঠছে এক জীবনের স্মারক—অনন্য, অবিস্মরণীয়।