সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
গেলো কয়েক বছরে দেশে নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুহারের হার কমলেও, সম্প্রতি এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সঠিক সমাধান এবং নির্মূলের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং গবেষণার উন্নয়ন।
শিশু সাদি ইসলাম মাত্র এক বছর বয়সের। তার কোমল শরীর জুড়ে রয়েছে অসহনীয় যন্ত্রণা। এরই মধ্যে তাকে দুবার লাইফ সাপোর্টে যেতে হয়েছে। পাশের বেডে থাকা দুই মাস বয়সী সাদিক ইসলামও পুরোপুরি হাসপাতালে থাকতে বাধ্য হয়েছে। আর তিন বছরের আয়ান, তারও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। এত অল্প বয়সে দীর্ঘ চিকিৎসার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে তার।
বাড়ির আঙিনায় ছোটাছুটি করা শিশুরা এখন হাসপাতালের বিছানায় পড়ে। এমনই অবস্থা প্রায় সব শিশুর যারা দেশে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
দেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। প্রতি বছর এই রোগে প্রায় ২৪ হাজার শিশু মারা যায়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু শিশুরাই নয়, বয়স্করাও এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু, প্রশ্ন উঠে—এই রোগটি একেবারে নির্মূল করা সম্ভব কি?
নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুহারের হার আগের চেয়ে কমলেও, এখনো একে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তবে মৃত্যুহার তিন শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে, অনেক রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং জটিলতা কম হয়, বলেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. কামরুজ্জামান।
বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘৯০ দশকে প্রতি বছর এক লাখ শিশু মৃত্যুবরণ করতো। যদিও আমরা এমডিজি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারলেও, এসডিজি’র লক্ষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যুর হার তিন শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হয়নি। এখনো আমরা সাত শতাংশের আশপাশে আছি।’
নিউমোনিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা ভিত্তিক পদক্ষেপ নিলে, রোগটির বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহিমা বেনজীর হক বলেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমানে একজন চিকিৎসক ১০ হাজার রোগীর দেখাশোনা করেন, তাই তিনি যথাযথ সেবা দিতে পারেন না। এর জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষিত করা জরুরি।