শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্যস্ত জীবনের চাপে দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। এর কারণে অনেকেই মানসিক চাপ কমাতে বারবার চা পান করেন, আর সেই সঙ্গেই সিগারেটের ধোঁয়া টানার অভ্যাসও থাকে তাদের। এই মিলিত অভ্যাসে অনেকেরই মনে হয়, যেন মনের বোঝা খানিকটা লাঘব হয়।
কিন্তু সাধারণ মানুষের এই অভ্যাস নিয়ে বিস্মিত বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর যদি চা পান করতে করতে ধূমপান করা হয়, তবে তা শরীরের ওপর আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শরীরে জন্ম নিতে পারে নানা ধরনের জটিল রোগ।
আজকের প্রতিবেদন থেকে জানুন, চায়ের সাথে ধূমপানের অভ্যাস কীভাবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
হার্টের ক্ষতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সিগারেটে সাধারণত ৬ থেকে ১২ গ্রাম নিকোটিন থাকে। এই নিকোটিন হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর হতে পারে।
নিকোটিনের প্রভাবে হার্টের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং এই বাধা হার্ট অ্যাটাকের কারণও হতে পারে। আবার দিনে ৭-৮ কাপ চা পান করলে হার্ট রেট বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে।
এই কারণেই হার্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ক্যানসার
গবেষণায় দেখা গেছে, চা পান করার সময় ধূমপান করলে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। আসলে চা শরীরের কোষগুলিকে উদ্দীপিত করে। এই অবস্থায় সিগারেটের টক্সিন সহজেই কোষে ক্ষতি করতে পারে। ফলে মুখগহ্বর, ফুসফুস ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই চায়ের সাথে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করাই শ্রেয়।
হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা ও সিগারেটের সমন্বয় পাকস্থলীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এই অভ্যাসের ফলে হজমশক্তি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। বিশেষত, যাদের ইতিমধ্যেই আইবিএস বা আইবিডি রয়েছে, তাদের এই অভ্যাস আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চায়ের সঙ্গে সিগারেট খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে
অনেকেই মানসিক চাপ কমাতে চা পান করার পাশাপাশি ধূমপান করেন। কিন্তু এর ফলাফল উল্টো হতে পারে। চায়ে উপস্থিত ক্যাফেইন ও ট্যানিন মনের ভার বাড়িয়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে, সিগারেট শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।
এছাড়াও, চায়ের সঙ্গে সিগারেট খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়। এতে দাঁতের রং ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যায় এবং ক্ষয় হতে শুরু করে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অভ্যাস পরিবর্তন করুন।
কীভাবে অভ্যাস বদলাবেন
চা পান সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ চা পান করতে পারেন। তবে চায়ের সাথে দুধ মেশাবেন না। চিনি ছাড়াও চা পান করার চেষ্টা করুন, এতে উপকারিতা পাবেন।
ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা এখন থেকেই শুরু করুন। একটাও সিগারেট না খাওয়ার শপথ নিন। নিজের মনকে শক্ত করুন। প্রয়োজনে ধূমপান না করার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলি কোথাও লিখে রাখুন। যখন ধূমপানের ইচ্ছা জাগে, সেই লেখাগুলি পড়ুন। এর পাশাপাশি নিকোটিন গামের সহায়তা নিতে পারেন। তবে যদি হাজার চেষ্টা করেও নেশা ত্যাগ করতে না পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
সূত্র: এই সময়