সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় দিনের খেলা শেষেই ইংল্যান্ড জয়ের দোরগোড়ায় ছিল। চতুর্থ দিন ইংলিশ দলটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।
৪ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করা নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ ৪ উইকেট যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৯৯ রান। এর ফলে ইংল্যান্ডের সামনে ১০৪ রানের সহজ লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা তারা মাত্র ১২.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে পূরণ করে নেয়।
অভিষেক ম্যাচেই ঝলক দেখিয়েছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার জ্যাকব বেথেল, ৩৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তার সঙ্গে জো রুট অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ২৩ রান করে। এ ছাড়া বেন ডাকেট ১৮ বলে ২৭ রান করেন, যা দলের দ্রুত জয়ের পথে অবদান রাখে।
তবে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন পেসার ব্রাইডন কার্স। দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি তুলে নেন ৬ উইকেট, প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৪টি। এই ১০ উইকেট শিকার তাকে ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৬ বছরে দেশের বাইরে কোনো ইংলিশ পেসারের এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
৬ উইকেটে ১৫৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা নিউজিল্যান্ড দলীয় স্কোর ১৯০ রানে নাথান স্মিথকে হারায়। এরপর ২০৯ রান পর্যন্ত যেতে আউট হন ম্যাট হেনরি ও টিম সাউদি।
ড্যারিল মিচেল এবং ও’রুর্ক দশম উইকেট জুটিতে ৪৫ রান যোগ করেন। মিচেল একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং ৮৪ রান করেন। শেষ পর্যন্ত মিচেল আউট হলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ২৫৪ রানে। আজ তাদের ইনিংসে করা ৯৯ রানের মধ্যে ৫৩ রানই আসে মিচেলের ব্যাট থেকে।
ইংল্যান্ডের জয়ের মূল ভিত্তি ছিল প্রথম ইনিংসের বড় লিড। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ৩৪৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ইংল্যান্ড তোলে ৪৯৯ রান। হ্যারি ব্রুক করেন ১৭১ রানের চমৎকার ইনিংস। তবে এই ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বাজে ফিল্ডিংও ভূমিকা রেখেছে, কারণ ব্রুক একাই পাঁচবার জীবন পেয়েছেন। ফিল্ডিংয়ের এমন ব্যর্থতাই নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
এই জয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
তবে দলের সাফল্যের দিনে ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকসের চোট শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিনের শুরুতে বল করতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলের পর কোমরে জড়তা অনুভব করায় আর বোলিং করেননি। পুরো টেস্টে স্টোকস ১৯.৩ ওভার বোলিং করেছেন, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর তার সর্বোচ্চ।
ম্যাচশেষে স্টোকস বলেন, ‘পুরো সপ্তাহে দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই সন্তুষ্ট। ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর যে লিড পেয়েছি, তা ছিল অসাধারণ। বোলাররা সারা সময় দারুণ পরিশ্রম করেছে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৩৪৮ ও ২৫৪ (উইলিয়ামসন ৬১, মিচেল ৮৪; কার্স ৬/৪২, ওকস ৩/৫৯)
ইংল্যান্ড: ৪৯৯ ও ১০৪/২ (বেথেল ৫০*, রুট ২৩*; হেনরি ১/১২, ও’রুর্ক ১/২৭)
ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: ব্রাইডন কার্স