শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
মোস্তাফিজুর রহমানের করা ৪৩তম ওভারের শেষ বলটি উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন রশিদ খান। কিন্তু লং অফে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্যাচটি তালুবন্দি করে দলের জন্য এক দারুণ মুহূর্ত তৈরি করলেন; যেন সবার মধ্যে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। আফগান অলরাউন্ডার আউট হওয়ার মানেই তখন প্রায় নিশ্চিত জয়। এরপর দ্রুতই আরও একটি উইকেট চলে আসে। ৬৮ রানের জয় নিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সোমবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।
শারজার পিচের রিপোর্ট দেখে পাকিস্তান ক্রিকেট কিংবদন্তি এবং ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা টেলিভিশনে মন্তব্য করেছিলেন, ‘২৫০ রান করুন এবং প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখুন।’ ব্যাটসম্যানরা সেটি করে দেখিয়েছেন। বাকি কাজটা করেছেন বোলাররা।
টসে জয়ী হয়ে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। চমৎকার শুরু হলেও মাঝপথে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে, তবে শেষ দিকে জাকেরের ব্যাটে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৫২ রান। আফগানিস্তানের জবাব আসে ৪৩.৩ ওভারে ১৮৪ রানে, এবং বাংলাদেশ ৬৮ রানের দারুণ জয় তুলে নেয়। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে একাই ৭৬ রান করেন নাজমুল। শেষ দিকে ২৭ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দারুণ ভূমিকা রাখেন জাকের।
মুশফিকুর রহিমের চোটে এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান জাকের। কিপার-ব্যাটার হিসেবে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক করেন। এর আগে টি-টোয়েন্টি ও টেস্টেও অভিষেক হয়েছিল তার। এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা প্রমাণ করেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে যখন ব্যর্থতা দেখা দেয়, তানজিদ হাসান তামিম ২২ রান করে ফিরে যান, তখন নাজমুল হোসেন সৌম্য সরকারের সঙ্গে যোগ দেন। তাদের মধ্যে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে সৌম্য এলবিডব্লিউ আউট হন। পরে ড্রেসিংরুমে বসে রিভিউ না নেওয়ার জন্য আফসোস করেন সৌম্য, কারণ রিভিউ নিলে তার আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো না।
মিডল অর্ডারে মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ—কেউই দলের জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতে পারেননি। বিশেষ করে মাহমুদউল্লাহ, যিনি খারোতের বলে বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, তা আবারও তার বয়সের ভারকে সামনে এনে দেয়। শেষদিকে জাকের ও দীর্ঘ সময় পর দলে ফেরা নাসুম আহমেদের ব্যাটে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায়। নাসুম ২৪ বলে ২৫ রান করেন, যা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।