বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ভোটের আগে স্থানীয় নির্বাচন কেন চান আসিফ?
অনলাইন ডেস্ক
কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর শুধু সংগীত জগতে নয়, মাঝে মাঝেই সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে এক মন্তব্য পোস্ট করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আসিফ আকবর লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জরুরি। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতি বোঝা যাবে, মানুষও উপকৃত হবে।” তার এমন মন্তব্যের পরপরই কমেন্ট সেকশনে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। একজন মন্তব্যকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, “স্থানীয় নির্বাচন না চাওয়ার কারণ হচ্ছে নিজে এমপি হব, বউকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানাব। শালা ভাইস চেয়ারম্যান, শালিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, বড় চামচাকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ছোট চামচাগুলাকে মেম্বার বানাব। এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল হলে চুরির ক্ষেত্রে আর বাধা নেই।”
এই বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যের জবাবে আসিফ আকবর কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থন না করে কেবল লিখলেন, “একশ তে একশ।” তার এই সোজাসাপটা প্রতিক্রিয়া অনেকে মজা হিসেবে নিলেও, অনেকেই বলছেন, এটি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিক্রিয়া।
এরপর আরও একজন নেটিজেন, পারভেজ ভূঁইয়া নামে, আসিফের বক্তব্যকে ঘিরে যুক্তি-তর্কে অংশ নেন। তিনি লেখেন, “একপক্ষ চায় জাতীয় নির্বাচন আগে হোক, অন্য পক্ষ চায় স্থানীয় নির্বাচন আগে। এখানে দুই পক্ষের যুক্তিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি জাতীয় নির্বাচন আগে হয়, তাহলে ক্ষমতাসীনরা তাদের সুবিধামতো প্রার্থী নির্বাচিত করবে। আর যদি স্থানীয় নির্বাচন আগে হয়, তাহলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।”
এই বক্তব্যের জবাবে আসিফ লিখেন, “ওই দাঁতের সমস্যা নির্বাচন কমিশন, সরকার আর সেনাবাহিনী দেখবে।” যদিও এই উত্তরও বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারেনি। বরং ওই একই নেটিজেন পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “শেখ হাসিনার আমলেও তো নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী আর সরকার ছিল। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের হয়েই কাজ করেছিল। এখন যারা নতুন দল করছেন, উপদেষ্টা হচ্ছেন, তারা কি আলাদা কিছু করবেন—এটার গ্যারান্টি কে দেবে?”
এ পর্যায়ে আর কোনো জবাব দেননি আসিফ। তবে পোস্টটি নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনীতির মাঠে যখন জাতীয় নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে দুই পক্ষ মুখোমুখি, তখন একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল যশোরের টাউন হল ময়দানে বিএনপির এক জনসভায় বলেন, “আপনারা স্থানীয় নির্বাচন আগে করতে চান। কিন্তু এতে করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে, পাড়া-মহল্লায় অরাজকতা তৈরি করবে। আগে জাতীয় নির্বাচন হোক, দেশে শান্তি ফিরুক।”
এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার এক জনসভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া ঠিক হবে না। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা স্পষ্ট। এ কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।”
আসিফ আকবরের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে যেমন রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তেমনি তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও অনেকের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আসিফ আকবর। যদিও সে সময় বিএনপি নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।
।