রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
🔭 বিমানের সমান গ্রহাণু ছুটে এল পৃথিবীর কাছে! আঘাত না করলেও নজর রাখা জরুরি
অনলাইন ডেস্ক
বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, মহাকাশ মাঝে মাঝে এমন চমক পাঠায়, যা ভাবিয়ে তোলে মানবজাতিকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়! এক বিশালাকৃতির গ্রহাণু — যার উচ্চতা ১২০ ফুট, অর্থাৎ একদম একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের মতো বিশাল — সম্প্রতি ছুটে এসেছে পৃথিবীর খুব কাছ ঘেঁষে। নাম ২০২৫ এমএম। চলতি সপ্তাহেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে মহাকাশে ছুটে গেছে এবং এখন বিজ্ঞানীদের কড়া নজরে রয়েছে এই ‘ছোট্ট দৈত্য’।
১ জুলাই, ২০২৫। এই দিনে মহাজাগতিক ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় রচিত হলো। গ্রহাণু ২০২৫ এমএম পৃথিবী থেকে মাত্র ১.২৯ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর দিয়ে ছুটে গেল। চাঁদ যেখান থেকে পৃথিবীকে দেখে, তার চেয়েও প্রায় তিনগুণ দূরে হলেও এটি বিজ্ঞানীদের কাছে ‘নজরদারির মতো কাছের’ হিসেবে গণ্য হয়।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নিশ্চিত করেছে, এ গ্রহাণু বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর জন্য কোনো সরাসরি হুমকি নয়।
এমএম গ্রহাণুটি অ্যাটেন পরিবারভুক্ত — এই পরিবারের সদস্যরা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এমনভাবে, যাদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথকে অতিক্রম করে। এতে করে, কক্ষপথ সামান্য এদিক-সেদিক হলেই পৃথিবীর খুব কাছাকাছি চলে আসার ঝুঁকি থাকে।
২০২৫ এমএম ২৩,৮৭৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে মহাকাশে ছুটছে — মানে, সে এমন গতিতে চলে, যাতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগবে দুই ঘণ্টারও কম!
গ্রহাণুটি ছোট, কিন্তু বিপজ্জনক নয়—নাসা এমন বলছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানেন, এমন আকারের গ্রহাণু যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে, তাহলে বিশাল এক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, যার ফল হতে পারে বড় ক্ষয়ক্ষতি।
শুধু ২০১৩ সালেই, এমনই এক তুলনামূলকভাবে ছোট গ্রহাণু রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলে বিস্ফোরিত হয়েছিল, যার তরঙ্গে হাজারো ভবনের কাঁচ ভেঙে গিয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা এখন শক্তিশালী টেলিস্কোপ, রাডার ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এই ধরণের গ্রহাণুদের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ, সূর্যের আকর্ষণ, অন্য গ্রহের প্রভাব কিংবা মহাকাশীয় ধুলোর কারণেও কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হতে পারে।
নাসা স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০২৫ এমএম এই মুহূর্তে ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক বস্তু’ নয়। তবে ভবিষ্যতে যদি কক্ষপথে পরিবর্তন ঘটে, তখন হয়তো নতুন হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন হবে।
মহাকাশ সবসময়ই রহস্যে ভরা। আজ যা নিরাপদ, কাল তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বিজ্ঞানী আর মহাকাশ গবেষকদের কাজ হচ্ছে নজর রাখা আর পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া। গ্রহাণু ২০২৫ এমএম এখনো কিছুই করেনি, তবে তার কাছাকাছি আসা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা কতটা ক্ষুদ্র এই মহাবিশ্বে!
তবে ভয় নয়, বরং এই জ্ঞানকে উদ্দীপনায় পরিণত করি! মহাবিশ্বের গল্পগুলো জানুন, আগ্রহ বাড়ান—কারণ মহাকাশের প্রত্যেকটা ঘূর্ণন আমাদের জন্য পাঠিয়ে দেয় নতুন বার্তা। 🌠