মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও দুইজনের বিচার শুরু হবে।
অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে অন্য দুই আসামি হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। একই সঙ্গে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নামে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান, ১৬ জুন আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন যদি তারা উপস্থিত হন, তবে সেখান থেকেই বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। অন্যথায়, আইন অনুসারে তাদের অনুপস্থিত ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
রোববার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের বিপ্লবকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়া হবে তথ্যভিত্তিক, আবেগমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত। এটি একটি প্রতিশ্রুতি, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
তাজুল ইসলাম বলেন, “এই ন্যায়বিচার সবার সহযোগিতায় সম্পন্ন হবে। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা পাবে। আমাদের লক্ষ্য অন্ধকার অতীত থেকে বের হয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।”
তিনি আরও জানান, “পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ১৬ জুন তাদের হাজির করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ উপস্থিত না হন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের অনুপস্থিত ঘোষণা করা হবে।”
এর আগে, ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণহত্যা’ মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলার অপর দুই আসামি হিসেবে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। রোববার (১ জুন) সারাদেশে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।
গত ১২ মে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জুলাই গণহত্যার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেখানে শেখ হাসিনার নাম নির্দেশদাতা হিসেবে উঠে এসেছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মামলার তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর, দুই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলির ঘটনায় নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিচার দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় থেকে উত্তরণের সোপান।