শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
দীর্ঘ ১৮ বছরের আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৭তম বিসিএস (২০০৫) পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে ৯৬ জনকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, প্রয়োজনে সরকার এই মেয়াদ বাড়াতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে। যোগদানের সময় নির্ধারিত অঙ্গীকারনামা ও বন্ড দাখিল করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, জ্যেষ্ঠতা রক্ষার জন্য নিয়োগ কার্যক্রম ব্যাচের প্রথম প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে কার্যকর হবে। তবে এর কারণে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় ভাইভা নেয়। এতে অনেক প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন এবং পরবর্তীতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মোট ১ হাজার ১৩৭ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ৬৭৩ জন এবং এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।