বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
ফুটবল বিশ্বতারকা Lionel Messi ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামলা করেছে ‘ভিআইডি’ নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে মায়ামিভিত্তিক এই কোম্পানিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এই আলোচিত তথ্য প্রকাশ করে।
জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচকে ঘিরেই এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। ভিআইডি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ওই দুই ম্যাচের একক আয়োজক স্বত্ব অধিগ্রহণ করেছিল। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, কোনো ধরনের ইনজুরি না থাকলে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট খেলতে হতো।
কিন্তু ভিআইডির অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটিতে মেসি একবারও মাঠে নামেননি; বরং পুরো সময় গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করেছেন। অথচ হার্ড রক স্টেডিয়ামে তার পরিবারের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সুইটের ব্যয়ও বহন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে আরেকটি ঘটনা। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে না খেললেও পরদিনই ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেন মেসি। আয়োজকদের দাবি, এতে স্পষ্ট বোঝা যায়— তিনি খেলার মতো ফিট ছিলেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রীতি ম্যাচ এড়িয়ে গেছেন, যা সরাসরি চুক্তি ভঙ্গের শামিল।
আইনি নথিতে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও অসন্তোষ জানানো হয়েছে। ম্যাচটি মূলত শিকাগোর বড় সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেটি সরিয়ে ফোর্ট লডারডেলের ছোট চেজ স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে দর্শক ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা ১০ লাখ ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এএফএ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বললেও শিকাগো কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, টিকিট বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চীনে আরেকটি ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ব্যস্ত সূচির অজুহাতে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে ভিআইডি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন আইনি জটিলতা আর্জেন্টিনা দলের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, সেটিই এখন ফুটবল মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এখন পর্যন্ত মেসি কিংবা এএফএ’র পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।