শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
বিসিবি’র নাটকীয় বদলে ক্রিকেটপ্রেমীদের চমক লাগানো ঘটনা!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সাম্প্রতিক এক নাটকীয় পালাবদলের মধ্য দিয়ে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এনএসসি’র (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) মনোনয়নে পরিচালক হয়ে তিনি বিসিবির সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উঠেছে নানা প্রশ্ন—সরকারি হস্তক্ষেপ কি আইসিসির কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করবে? আর কেন সরানো হলো ফারুক আহমেদকে?
এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের শৃঙ্খলা পুনরায় প্রতিষ্ঠা এবং বিপিএলের ব্যাবস্থাপনায় গড়মিলের দায়ে ফারুক আহমেদকে সরানো হয়েছে। এটি আইসিসির নিয়ম মেনে নেওয়া পদক্ষেপ, তাই বিসিবির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা নেই।”
এর আগে বৃহস্পতিবার বিসিবির ১০ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ডের ৮ পরিচালক ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন। ওই চিঠিতে তাকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘আধিপত্যবাদী’ উল্লেখ করে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। একই দিন রাতেই এনএসসি তার পরিচালক পদ বাতিল করে দেন।
এনএসসির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের বিপিএলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ঘিরে অনিয়ম ও অস্পষ্টতার কারণে সৃষ্ট সংকটের জন্য প্রধানত ফারুক আহমেদ দায়ী। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ফারুক আহমেদও এনএসসি মনোনীত হয়ে বিসিবির সভাপতি হয়েছিলেন, এবার সেই একই প্রক্রিয়ায় তিনি পদ থেকে সরানো হলেন। অপসারণের আগে তিনি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার কথায়, “আমাকে কোনো ব্যর্থতার কারণ জানানো হয়নি, কেবল বলা হয়েছে ‘উপরমহল আমাকে চায় না।’ এটা কোনো ক্রিকেটীয় যুক্তি নয়।”
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলামকে এনএসসি থেকে মনোনীত করে দ্রুতই বিসিবির পরিচালক করা হয়, তারপর পরিচালকদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুসারে এনএসসি যেকোনো কাউন্সিলরকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করতে পারে, যা এবারই প্রয়োগ করা হয়েছে।
যদিও আইসিসি এবং ফিফা সরকারিভাবে ক্রীড়া সংস্থায় হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং ভারতের ফুটবল ফেডারেশনও এমন হস্তক্ষেপের কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। তবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষেত্রে এমন কোনো শঙ্কা নেই।