শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
স্ত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জাহের আলভী। এরপর তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন এই অভিনেতা। পরে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে বিচারক আদেশ ঘোষণা করেন।
শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ একাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষ দাবি করে, জাহের আলভীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আবেদনে বলা হয়, প্রেমের বিয়ের জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসার কারণে হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঈদ উপলক্ষে নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। ফলে ঘটনার সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করার যৌক্তিকতা নেই বলেও আদালতের কাছে দাবি করেন তার আইনজীবীরা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাত ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিক ও স্বজনরা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জাহের আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাহের আলভী ও আফরা ইভনাত ইকরার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। একই মামলায় গত ৪ জুন অভিনেতার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।