মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
মামলা ভুলে কাঠগড়ায় প্রেমপত্র, নোবেল কি নির্দোষ?
অনলাইন ডেস্ক
নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলার পর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান প্রিয়াকে কারাগারে বসেই বিয়ে করলেন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। বিয়ের পর স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে হাজির হন স্ত্রী প্রিয়া। সেই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে পকেট থেকে বের করা সিগারেট প্যাকেটের পেছনে লেখা লাভ লেটার তুলে দেন নোবেল। এতে লেখা ছিল— ‘তুমি আমার প্রাণের প্রিয়া। তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ’।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বেলা ১২টা ২৩ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালতে আনা হয় নোবেলকে। বিচারক এজলাসে উপস্থিত না থাকায় কাঠগড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন নোবেল। এক পর্যায়ে হাত ধরে, কানে কানে হেসে হেসে কথা চালিয়ে যান দুজনে। সাদা পাঞ্জাবিতে থাকা নোবেল তখন ছিলেন বেশ আবেগতাড়িত।
পরে ১২টা ৩৮ মিনিটে একে একে ১৫-২০টি ছোট ছোট সাদা কাগজে লেখা চিঠি স্ত্রীর হাতে তুলে দেন নোবেল। একাধিক চিঠিতে প্রেমের বার্তা, কিছুতে বিভিন্ন নাম-নম্বর লেখা ছিল। চিঠিগুলো জোরে পড়ে শোনান স্ত্রীকে। একটি চিঠি পড়ে প্রিয়া হাসতে হাসতে আবেগে ভেসে যান। এরপর পকেট থেকে বের করেন সিগারেটের প্যাকেট, যার পেছনে লেখা ছিল, ‘তুমি আমার প্রাণের প্রিয়া, তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ।’ এটি পড়ে স্ত্রীর হাসি আরও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় এক আইনজীবী বলেন, “চিঠিতে কি লেখা, একটা ছবি তুলি।” তখন নোবেল স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘না, না, কাউকে দেখিও না। শুধু তুমি দেখবে।’
এরপর বিচারক আসেন এজলাসে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন জামিনের আবেদন করেন। বলেন, নোবেল ও বাদী এখন বিবাহিত, বাদীর কোনো আপত্তি নেই। বিচারক তখন প্রিয়াকে প্রশ্ন করেন, “আপত্তি আছে?” প্রিয়া বলেন, “না, আমার কোনো আপত্তি নেই।” বিচারক এক হাজার টাকার বন্ডে নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর দম্পতি হাতে হাত রেখে হাসিমুখে হাজতখানায় চলে যান।
নোবেলের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, জামিন পাওয়ায় মুক্তিতে বাধা নেই। পরবর্তীতে বাদীর সম্মতিতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।
এর আগে গত ১৯ জুন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাদের বিয়ে হয়। এর একদিন আগে ১৮ জুন আদালত কাবিন করার নির্দেশ দেন।
গত ১৯ মে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে প্রিয়া নোবেলের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় মামলা করেন। ওইদিনই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রিয়া ও নোবেলের পরিচয় হয়, যা গড়ায় প্রেমে। গত বছরের ১২ নভেম্বর নোবেল তাকে স্টুডিও দেখানোর কথা বলে বাসায় ডেকে নেন এবং সহায়তাকারীদের সঙ্গে মিলে আটকে রাখেন।
সেদিন রাত ৮টার দিকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখেন ও ধর্ষণ করেন। সেই ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেন— তার কথামতো না চললে ভিডিও ছড়িয়ে দেবেন। ভয়ে প্রিয়া চুপ ছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মারধর ও কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন চালান নোবেল। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে প্রিয়ার পরিবার ৯৯৯-এ কল দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং নোবেলকে গ্রেপ্তার করে।
যদিও পরে প্রেমের নানা মুহূর্ত ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন মোড় নেয় ঘটনা।